রহস্যঘেরা তাজহাট জমিদার বাড়ির অজানা ইতিহাস

তাজহাট জমিদার বাড়ির অজানা ইতিহাস নিয়ে আজকে আলোচনা হয়ে যাক নাকি পাঠকবৃন্দ ? কারন, শীতকাল তো চলেই এলো যা আমাদের ভ্রমণপ্রেমি ভাই-বোনদের পছন্দের ঘুরে বেড়ানোর মৌসুম। আর এই মৌসুম ভালোভাবে উপভোগ করার জন্য উত্তরবঙ্গ ছাড়া বেটার কোন অপশন আছে বলে হয়তো আমার মনে হয় না।
তাজহাট-জমিদার-বাড়ির-অজানা-ইতিহাস
তাই চলুন আজকের ব্লগে আলোচনা করা যাক বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে অবস্থিত তেমনই একটি প্রাচীন স্থাপনা নিয়ে যার ইতিহাস আমাদের অনেকেরই অজানা, আর তারই সাথে জানবো এর সাথে জুড়ে থাকা গোপন প্রাচীন সব ইতিহাস সম্পর্কে । আশা করবো ধৈর্য সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়বেন আর পড়া শেষে উক্ত স্থানে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়ে দিবেন । 😁

পেজ সূচিপত্রঃ তাজহাট জমিদার বাড়ির অজানা ইতিহাস

তাজহাট জমিদার বাড়ির অজানা ইতিহাস

ভ্রমণপিপাসু আমরা যারা আজকের ব্লগটি পড়ছি এমন সকলেরই "তাজহাট জমিদার বাড়ির অজানা ইতিহাস" নিয়ে আগ্রহ রয়েছে । যেটা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক কারন, আমাদের ভিতরে অনেকেই আছে যারা কৌতূহলী তারা এমনসব বিভিন্ন বিষয় যেমনঃ ইতিহাস, ক্ষুদ্র প্রাণী, মহাবিশ্ব ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করে থাকে অবশ্য গবেষণা বলাটা ভুল হবে কারন তারা এইসব বিষয় নিয়ে নাড়া ঘাটা করে কারন এইটা তাদের শখ।
 
আবার আমাদের মাঝে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা ভ্রমণপিপাসু বা ভ্রমণপ্রেমী সে যাই বলিনা কেন এককথায় তারা ভ্রমণ করতে খুব ভালোবাসে এমন উভয় শ্রেনীর জন্য "তাজহাট জমিদার বাড়ি" একটি অন্যতম চয়েস হবে কারন এইটি প্রাচীন স্থাপনা হওয়ায়, যারা জানতে বা এক্সপ্লোর করতে ভালোবাসেন তারা এইখানে গিয়ে সময় কাটাতে পারবেন আবার, যারা ভ্রমণপ্রেমী আছেন আমার মতো তাদের তো কথায় নেই কারন তাদের জন্য এইটা হতে পারে একটি সেরা জায়গা।
তাজহাট জমিদার বাড়ি নিয়ে আলোচনা করতে শুরু করলে লিখে শেষ করা যাবেনা কারন, এতটাই গুরুত্ববহ একটি প্রাচীন স্থাপনা এটি । এটি আমাদের দেশের শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের সাথে যুক্ত নয় বরং এটি আমাদের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির সাথেও সমানভাবে জড়িত একটি জমিদারি প্রাসাদ।বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এটিকে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে যেখানে একসময়ে জমিদার দের অভিজাত্য ও ঐশ্বর্য প্রতিফলিত হতো।

তাজহাট নামটি এলো কোথা থেকে

আচ্ছা এতক্ষণ তো তাজহাট জমিদার বাড়ির সুনাম করে যাচ্ছি তবে কি আপনাদের একবারের জন্য হলেও জানতে ইচ্ছা করেনি "যে এর নাম তাজহাট কেন বা কে এই নাম দিয়েছে ?" অনেকের মনেই হয়তো এই প্রশ্ন এসেছে আবার অনেকের কাছে হয়তো ব্যাপারটা এতটা গভির মনে হয়নি।তবে চলুন যাদের মনে এই প্রশ্নটি এসেছে তাদের উত্তর দেওয়া যাক।

"তাজহাট" এই শব্দটির অর্থ হলো "রত্ন ভান্ডার বা মুকুটের আস্তানা"।কি জোশ না ব্যাপারটা! আরো জোশ তথ্য দিবো জানতে হলে শুধু পড়তে থাকুন।এই তাজহাট জমিদার বাড়ির কর্তা ছিলেন "জমিদার কুমার গোপাল লাল রায়" তিনি একজন প্রখাত রত্ন ব্যবসায়ী ছিলেন । তিনি সে সময়ে বিপুল পরিমাণ হীরা-রত্ন-জহরত সংগ্রহ করেছিলেন এবং রত্নের পরিমাণ বেশি হওয়াতে তিনি প্রাসাদেই একটি গোপন রত্ন ভান্ডার বানিয়েছিলেন। ফলে এই ব্যবসায় তাকে জমিদার বানাতে সাহায্য করেছিলো।

যদি আমরা ইতিহাসবিদ দের কথা পড়ি তবে তাদের কথা মতে, জমিদার গোপাল লাল রায়ের রত্নের ব্যবসার সাথে মিল রেখেই তিনি হয়তো এই নামকরণ করেছিলেন বলে তারা অনুমান করেন।বুঝতেই পারছেন এই নামের সাথে কি পরিমান ক্ষমতা, আয়েশ এবং বিলাসবহুল জীবন-যাপনের আভাস পাওয়া যায়।

আচ্ছা আপনাদের কি মনে হয় ? এটি কি যৌক্তিক কারন ? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না যেনো।

তাজহাট জমিদার বাড়ি স্থাপনের সকল ইতিহাস

কৌতূহল প্রেমীরা মনে হয় অস্থির হয়ে পড়েছেন এর ইতিহাস জানার জন্য এতক্ষণ হয়তো ধৈর্য ধরে ছিলেন কিন্তু হীরা আর রত্নের কথা শুনে আর তর সইছে না আপনাদের । আচ্ছা আপনাদের ধৈর্যের আর পরীক্ষা নিবো না চলুন তবে জেনে নিই তাজহাট জমিদার বাড়ির অজানা ইতিহাস সম্পর্কে ।

আমাদের দেশে একসময় জমিদারি শাশনামলের প্রচলন ছিলো সে সুবাদে আমাদের দেশে অনেক জমিদার বাড়ির দেখা মেলে যেমনঃ রাজশাহী জেলার নাটোর জমিদার বাড়ি, পুঠিয়া জমিদার বাড়ি, পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল ইত্যাদি। এদের মধ্যে অন্যতম হলো রংপুর জেলার তাজহাট জমিদার বাড়ি

আমরা তাজহাট নামের ইতিহাস পড়েছি এটিকে রাজবাড়ি নামেও বেশ পরিচিত। রংপুর শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে দক্ষিন-পূর্ব দিকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে মহিগঞ্জের তাজহাট গ্রামে এই জাদুঘরটি অবস্থিত । বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে তৎকালীন জমিদার  জমিদার কুমার গোপাল লাল রায় প্রাসাদটি নির্মাণ করেন । প্রায় ২০০০ কর্মীদের এই প্রাসাদটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিলো ১০ বছর ।

১৯১৭ সালে এই প্রাসাদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় শোনা যায়, তৎকালীন সময়ে এটি নির্মাণের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হয়েছিলো । শুরুতেই বলেছিলাম এই প্রাসাদের এক অংশকে বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে পর্যটকদের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে । ১৮৭৯ সালে উত্তরাধিকারী সূত্র অনুযায়ী গোবিন্দলাল রায় এটির জমিদারি পান।

তাজহাটের স্থাপত্যশৈলীর আজব সব মহিমা

তাজহাটের ইতিহাসের মতো এর স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনও চোখে পড়ার মতো যা আমাদের সকলেরই নজর কাড়তে সক্ষম । এই তাজহাট প্রাসাদের নকশা ইউরোপীয় রেনেসাঁ শৈলীতে নির্মিত । এই প্রাসাদের দুইপাশে রয়েছে বিভিন্ন গাছের সারি শুধু এমনি গাছ নয় ফুলগাছ যেমনঃ মেহগনি, কামিনী গাছ রয়েছে।শুধু তাই নয় আম এবং কাঁঠাল গাছও রয়েছে এইখানে।তাজহাটের চারিপাশে রয়েছে গাছের দ্বারা নির্মিত বিভিন্ন রকমের আকর্ষনীয় সব গাছের ডিজাইন।আরো রয়েছে দুটি বড় পুকুর।

তাজহাট জমিদার বাড়িটির নকশা কিছুটা আহসান মঞ্জিলের মতো দেখতে । ২১০ ফুট প্রশস্ত বিশিষ্ট এই প্রাসাদটি লাল ইট ,শ্বেত ও চুনা পাথর দ্বারা নির্মিত এবং চার তলার সমান উঁচু । সাদা মার্বেল পাথর দ্বারা নির্মিত সর্বোমোট ৩১টি সিড়ি রয়েছে পু্রো তাজহাট জমিদার বাড়িতে । জাদুঘরের ভিতরে প্রবেশ থেকে শুরু করে পুরো জাদুঘরটিতে একই পাথর বসানো ।

প্রাসাদটির সম্মুখভাগ প্রায় ৭৬ মিটার বিশিষ্ট। প্রাসাদটির মাঝখানে একটি মার্বেল পাথরের আকর্ষনীয় সিঁড়ি রয়েছে যা বারান্দা থেকে সোজা উপরে নিয়ে যায়। তাজহাট জমিদার বাড়ির ছাদের মাঝখানে  একটি অষ্টাভুজ আকারের একটি গম্বুজ রয়েছে । এছাড়াও ছাদের চারিপাশে পাঁজর শঙ্ক যুক্ত গম্বুজ দ্বারা সাজানো রয়েছে।

এই তাজহাট প্রাসাদটির খোলা প্রান্তের পশ্চিম থেকে ইংরেজি অক্ষর "U" আকৃতির মতো নকশা দিয়ে তৈরি । নিচ তলায় অন্দরমহল রয়েছে যার পরিমাপ ১৮x১৩ মিটারের বেশি ।এছাড়াও ভবনটির দ্বিতীয় তলায় প্রায় ২২টির মতো কামরা রয়েছে ।

তাজহাটের যে কথা গুলো এখনো অজানা

তাজহাট জমিদার বাড়ির এখনো এমন কিছু ইতিহাস রয়েছে যা অনেকেরই অজানা। তবে চলুন পড়ে দেখি।আর যারা তাজহাট জমিদার বাড়িতে গেছেন কমেন্ট করে জানাবেন আপনারা এর মাঝে কয়টি তথ্য জানতেন 😉।

যদি আমরা তাজহাট জমিদার বাড়ির অজানা তথ্যের কথা বলি তবে শুরুতেই বলতে হয় এইটি ইউরোপীয় রেনেসাঁ পদ্ধতিতে নির্মিত যদিও এটি আমি শুরুতেই আপনাদের বলেছি । এই জাদুঘরের প্রদর্শনী কক্ষে দশম ও একাদশ শতাব্দীর বিভিন্ন টেরাকোটার শিল্পকর্ম রয়েছে । এছাড়াও এইখানে প্রাচীন ভাষায় লিখিত সংস্কৃত ও আরবী ভাষার পাণ্ডুলিপি রয়েছে ।
তাজহাট-জমিদার-বাড়ির-অজানা-ইতিহাস
আপনারা জানলে অবাক হবেন মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়কার কোরআন মাজিদ রয়েছে এইখানে । আর সনাতনী ভাইদের রয়েছে সে সময়ের লিখিত রামায়ণ ও মহাভারত পুরাণ ।পেছনের ঘরের দিকে বিষ্ণু দেবতার একটি কালো প্রতিকৃতি রয়েছে ।

এইছাড়াও ইতিহাস থেকে জানা যায় তাজহাট জমিদার বাড়িতে গোপাল লাল রায় এর নির্মিত গুপ্ত সিঁড়ি রয়েছে যার সংযোগে সুড়ঙ্গ পথ রয়েছে যা ঘাঘট নদীর সাথে গিয়ে যুক্ত হয় । তবে বর্তমানে এটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে ।

আমরা শুরুতেই পড়েছিলাম জমিদার গোপাল রত্নের ব্যবসা করতো তাই স্থানীয় অনেকেই ধারণা করে থাকেন তাজহাটের ভিতরে অনেক রত্ন এখনো গুপ্ত থেকে গেছে যা এখনো উদ্ধার হয়নি । আর একটি বিষয় আপনি এর ভিতরে গিয়ে ছবি তুলতে পারবেন না এটি নিষিদ্ধ ।

আপনি কি এর ভিতরে গিয়ে ছবি তুলতে পেরেছিলেন কমেন্ট করে জানাবেন আশা করি ।

তাজহাট জমিদার বাড়িতে যাওয়ার ভ্রমণ নির্দেশিকা

আরে দৌড় দিলেন নাকি এত ইতিহাস পড়ে ? থামেন থামেন যাবেন বুঝতে পেরেছি কিছু রত্ন পেলে আমাকেও দিয়েন কিন্তু তার আগে ভ্রমণ নির্দেশিকাটা জেনে নেন। আমি বর্তমান তথ্যটি দেওয়ার চেষ্টা করেছি তবুও আমার সাজেশন হবে যাওয়ার আগে পরিচিত কারো সাথে কথা বলে নিয়ে যাওয়া।

তাজহাট জমিদার বাড়িতে যদি গ্রীষ্মকালীন সময়ে যেতে চান অর্থাৎ এপ্রিল মাসের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর মাসের দিকে তবে আপনারা সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬ট পর্যন্ত এইখানে ঘুরতে পারবেন,তখন জাদুঘরটি তে ভ্রমণ করতে পারবেন।
আবার যদি, শীতকালীন সময়ে তাজহাট জমিদার বাড়িতে যেতে চান অর্থাৎ অক্টোবর মাসের শুরু থেকে মার্চ মাসের দিকে তবে আপনারা সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত এইখানে ঘুরতে পারবেন, তখন জাদুঘরটি তে ভ্রমণ করতে পারবেন।

তাজহাট জমিদার বাড়ি কবে বন্ধ থাকে

এই বার আসা যাক তাজহাট জমিদার বাড়ি বা তাজহাট জাদুঘর কবে বন্ধ থাকে এই টপিকে ,যদিও টপিকটা বড় নয় তবুও জেনে রাখা ভালো বলে আমি মনে করছি । তা নাহলে দেখা যাবে বন্ধের দিনে গিয়ে আমাকে গালি দিবেন বলবেন সিয়াম ভাই বলেনি।তাই জানিয়ে রাখা পড়বেন আশা করি ।

তাজহাট জমিদার বাড়ি তেমন বন্ধ রাখার নজির নেই তবে সপ্তাহে , রবিবার সারাদিন এবং সোমবারে অর্ধেক দিনের জন্য জাদুঘরটি বন্ধ থাকে । শুধু তাই নয় সমস্ত সরকারি ছুটির দিনেও এটি বন্ধ থাকে।আরেকটি বিষয় প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০মিনিট পর্যন্ত মধ্যাহ্ন ভোজের জন্য জাদুঘরটি বন্ধ থাকে।

তাজহাট জমিদার বাড়ি যাওয়ার যাতায়াত খরচ

আসেন তাহলে যাতায়াত খরচ টা সেরে ফেলি নাকি ? চলেন জেনে নেওয়া যাক তাজহাট জমিদার বাড়ি যাওয়ার যাতায়াত খরচ সামগ্রী । আমি নিম্নে বাসে রংপুর আসতে কত টাকা লাগবে তার তালিকা দিলাম।
ঢাকা রাজশাহী খুলনা বরিশাল সিলেট
৭০০-১৫০০ টাকা ৪৫০-৪৮০ টাকা বাসে সরাসরি যেতে পারবে না ৭০০-১৩০০ টাকা বাসে সরাসরি যেতে পারবে না

যে সকল স্থান হতে বাসে আসা সম্ভব নয় তাদের জন্য আমি ট্রেনে যাতায়াতের খরচের টাকা দিয়ে দিচ্ছি।
ঢাকা রাজশাহী খুলনা বরিশাল সিলেট
৫০৫-১১৬২ টাকা ট্রেনে সরাসরি যেতে পারবে না ৮৪০-১২৬০ টাকা ট্রেনে সরাসরি যেতে পারবে না ট্রেনে সরাসরি যেতে পারবে না

এইরকম খরচ বাস/ট্রেন দিয়ে যেতে আপনাদের খরচ হবে । আর জমিদার বাড়িতে প্রবেশ করতে আপনাদের টিকেট কাটতে হবে সেটির মূল্য ২০টাকা । আর মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য মাত্র ৫ টাকা । এশিয়া বাদের অন্যদেশিদের জন্য টিকেট মূল্য ২০০ টাকা । আর ৫ বছরের ছোট বাচ্চাদের প্রবেশের জন্য কোন টাকা লাগে না ।

কোন সময়ে ভ্রমণ করলে বেশি উপভোগ করবেন

এতক্ষণ কত পড়লেন তাই না হয়তো এখনো কয়েকজনের তাজহাট নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে । অনেকের হয়তো গোপাল লাল রায়ের রত্নের কথা গুলোই বিশ্বাস হয়নি যেইটা খুবই স্বাভাবিক কারন আমরা সব মানুষ একই চিন্তা ধারার নই । আমরা প্রত্যেকেই একে অন্যের চেয়ে আলাদা আর এইটি আমাদের শ্রেষ্ঠ বানায়।

দেখেন অনেকে পড়েও বিশ্বাস করছে না আবার অনেকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যে বাইকে যাবে না বাসে নাকি ট্রেনে যাইহোক আমি সব কিছুরই টাকার ডিটেলস দিয়ে দিয়েছি এখন বাকিটা আপনাদের উপর।

আর আমার পারসোনাল সাজেশন হবে আপনি শীতকালে যান কারন সে সময়টাই ঘুরে বেড়ানোর অনেকে ছাত্র ভাই-বোন আছেন যাদের শীতকালের পরীক্ষা দিয়ে বেড়াতে যাওয়ার প্লান করেন তাদের জন্য এইটা ভালো সুযোগ ঘুরতে যাওয়ার । তাই আমার মতে শীতকালটা বেস্ট তাজহাটে যাওয়ার জন্য।

আমার তাজহাট জমিদার বাড়ি যাওয়ার অভিজ্ঞতা

আর বেশি কথা বলবো না কারন ইতিমধ্যেই আপনারা অনেক্ষণ ধরে পড়ছেন আমি শুধু আমার তাজহাট জমিদার বাড়িতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়েই একটু কথা বলবো । আমি ২০২৩ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখে এই স্থানে বেড়াতে যাই ।
তাজহাট-জমিদার-বাড়ির-অজানা-ইতিহাস
আমার বাসা রাজশাহী,সেইখানে থেকে আমি রংপুরে এসে তাজহাটে যাই আমার সঙ্গে আমার মা,চাচি,ফুপি,মামারা ছিলেন ।বলতে গেলে শুরুতে মনে হয়েছিলো ভালো লাগবে না তবে সত্যি বলতে আমি অনেক উপভোগ করছি , প্রথম দেখায় আমিও আহসান মঞ্জিল মনে করেছিলাম এটিকে।আর কথা না বাড়াই।

পরিসমাপ্তিঃ তাজহাট জমিদার বাড়ির অজানা ইতিহাস

সুপ্রিয় পাঠকগণ "তাজহাট জমিদার বাড়ির অজানা ইতিহাস" নীশের আজকের ব্লগের একদম শেষ কথাতে চলে এসেছি।আমি নিজেও আমার তাজহাট ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এইখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমি আশা করবো আপনারা আমার এই ব্লগটি পড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের এই প্রাচীন ঐতিহ্য সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারনা পেয়েছেন ।

ব্লগের এই কলামটা পড়ছেন মানেই শেষ পর্যন্ত পড়ছেন সেটির জন্য আমি অবশ্যই আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আপনাদের এই পড়ার প্রতি যে ভালোবাসা সেটি অমর থাকুক। তো আজকের ব্লগের সমাপ্তিটা এইখানেই ঘটছে ।

তাজহাট ঘুরে থাকলে আপনাদের অভিজ্ঞতাও কমেন্টে জানাতে পারেন আমি অবশ্যই পড়ে দেখবো আর যারা যারা এইবার শীতে যাওয়ার প্লান করছেন তাদের জন্য অগ্রিম শুভকামনা । আল্লাহ্‌ আপনাদের ভ্রমণের এই ইচ্ছাকে বাঁচিয়ে রাখুক।

সবশেষে পরবর্তি ব্লগটি কোন বিষয়ে চান সেইটি কমেন্ট করে জানাবেন আশা রাখছি । সকলেই ভালো থাকবেন, আমার জন্য দোয়া রাখবেন,
আস সালামু আলাইকুম।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

The ClickEra এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। কারণ,আপনাদের প্রতিটি কমেন্টে আমরা নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পাই।

comment url

Siam Sarar
Siam Sarar
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও দ্যা ক্লিকএরা ব্লগের অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।