লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য যেভাবে আবেদন করবেন
লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরম সম্পর্কিত আজকের ব্লগ শুরু করার আগে আপনাদের কাছে একটি প্রশ্ন থাকলো, "কে কে এই দেশের নাম শুনেছেন?" আমি জানি অনেকেই উত্তর দিবেন জানেন না।লিথুনিয়া ইউরোপের কম জনবহুল দেশের মাঝে একটি।যার অবস্থান ইউরোপের উত্তর-পূর্ব দিকে।
যারা কাজের জন্য বিদেশে পাড়ি জমাতে চান তাদের জন্য এটি হতে পারে দারুন চয়েস।তাই
চলুন আজকের ব্লগে আলোচনা করা যাক এই দেশে যেতে কেমন খরচ হয়,দেশটি কাজের জন্য কেমন
হবে এইসব বিষয়াদি নিয়ে।লিথুনিয়া দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ধৈর্য নিয়ে শেষ
পর্যন্ত পড়ুন।
পেজ সূচিপত্রঃ লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরম
- লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরম
- লিথুনিয়া দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
- ইউরোপ মহাদেশের সুন্দর জায়গা সমূহ
- লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসার শর্তাবলী
- লিথুয়ান ওয়ার্ক পারমিট এজেন্সির তালিকা
- লিথুনিয়া দেশের সেনজেন সুবিধা সমূহ
- লিথুনিয়া দেশে কাজের বেতন কত হয়ে থাকে
- স্টুডেন্ট ভিসা খরচ কেমন লিথুনিয়ায়
- লিথুনিয়ায় ছাত্রদের বেস্ট পার্টটাইম জব সমূহ
- লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে
- লিথুয়ানিয়ার আবহাওয়া সম্পর্কে জানুন
- লিথুনিয়ার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরমের মেয়াদ
- লেখকের মন্তব্যঃ লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরম
লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরম
লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরম বিষয়ক আজকের ব্লগে আমরা শুরুতেই
জানবো লিথুনিয়া দেশটি সম্পর্কে।অতঃপর ধারাবাহিক ভাবে এইখানে যেতে কেমন খরচ
লাগে? এই দেশে গিয়ে কোন কাজ গুলো করাটা সহজতর তার সাথে বেতনও বেশি।
লিথুনিয়া বর্তমান বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠা দেশগুলোর মাঝে একটি।যারা কাজের
উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে চাচ্ছেন তাদের জন্য লিথুনিয়া হতে পারে একটি ভালো চয়েস
কারন,এই দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ভুক্ত একটি দেশ সেই সাথে এটি
সেনজেনভুক্ত।দেশটির অর্থনীতির পাশাপাশি
উন্নয়নের দিকগুলোও দিন দিন বাড়তে থাকায় এইখানে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে।যেমনঃ
- নির্মাণ খাত
- কৃষি কাজ
- রেস্টুরেন্টে কাজ
- পরিবহণ খাত
- দোকানে প্যাকার
সবচেয়ে ভালো দিক হলো এই দেশে কাজের জন্য ভিসা খুব সহজেই পাওয়া যায়।আর
যেহেতু কাজের পরিমাণ বাড়ছে সেহেতু শ্রমিকদের চাহিদাও সে দেশে বাড়তে
থাকছে।আর এ দেশের সুবিধাজনক দিকটি হলো এর
বেতন তুলনামুলক ভাবে বেশি।
লিথুনিয়ায় ৪ ধরনের ভিসায় যাওয়া যায়।
- যারা সাধারণ কাজের জন্য যেতে চাচ্ছেন তাদের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
- দক্ষ কর্মী হলে তারা ইইউ (EU Blue) কার্ড ভিসায় যাবেন
- যারা এমনি নির্দিষ্ট কাজের জন্য যাবেন তাদের জন্য সিজনাল/মৌসুমি ভিসা।
- যদি আপনি কোন কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কাজের জন্য ট্রান্সফার হয়ে যান তবে আপনাকে ইন্ট্রা-কর্পোরেট ভিসায় যেতে হবে।
যেহেতু আজকে আমরা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে আলোচনা করবো তাই
চলুন সেইখানে যাওয়ার জন্য কিভাবে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন করবেন করবেন
তা জেনে নিই খুবই সহজ পদ্ধতি তাই একবার পড়লেই মনে থাকবে বলে আমি মনে
করি।তাই ধৈর্য নিয়ে পড়ুন।
এখন আর আগের মতো এত কষ্টকর প্রক্রিয়া নেই সেকারনে আপনি চাইলে ঘরে বসেই
অনলাইনের মাধ্যমে Ltihuania Visa Application লিখে সার্চ দিয়ে তাদের
অফিশিয়াল সাইটে প্রবেশ করে লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরমটি
সংগ্রহ করতে হবে।অতঃপর আপনার সকল অরিজিনাল তথ্যের ঘর গুলো পুরণ করতে হবে।
আমার সাজেশন হবে আপনি এমন কোন ব্যাক্তির মাধ্যমে এটি পূরণ করুন যার এইসবের
অভিজ্ঞতা আগে থেকেয় রয়েছে।প্রয়োজনে আপনি
এজেন্সির সাহায্য নিতে পারেন।কারন এজেন্সির
মাধ্যমে যদি করেন তাহলে তারা নিজে থেকেই বাকি কাজগুলো করে দিয়ে থাকে।অবশ্য এর
জন্য খরচ একটু বেশি পড়বে তা নিয়েও আলোচনা আসছে সমস্যা নেই।
আবেদন করা শেষে তা জমা দেওয়া হয়ে গেলে, লিথুনিয়ার প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ আপনার
যোগ্যতা যাচাই করবে।তারা যদি আপনাকে সিলেক্ট করে তবে আপনার ওয়ার্ক
পারমিট ভিসার জন্য অনুমতি দিবে।তারপরে নির্দিষ্ট ফি শোধ এবং ইন্টারভিউ সহ
বাকি সকল কাজ সম্পন্ন করতে হবে।যদি সব প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র ঠিক থাকে তবে ভিসা
পেয়ে যাবেন বলে আশা করা যায়।
লিথুনিয়া দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুন
লিথুনিয়া দেশে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজের জন্য যাবেন অথচ সে দেশ সম্পর্কে
যদি ভালো ধারনা না রাখেন তবে সে দেশে গিয়ে দালাল/বিপদের পড়ার খপ্পরে পড়ার
সম্ভবনা সব চেয়ে বেশি।তাই চলুন লিথুনিয়া দেশ সম্পর্কে সংক্ষেপে বিস্তারিত
আলোচনা করা যাক।
লিথুনিয়া বাল্টিক সমুদ্রের তীরে অবস্থিত একটি দেশ।জন্মসুত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র
হলেও ১৯৪০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এটিকে দখল করে নেয়।বর্তমান বেলারুশ এবং
ইউক্রেনের অনেক এলাকা এ দেষের অধীনে ছিলো।লিথুনিয়ার রাজধানীর নাম
ভিলনিয়াস।দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম ইনগ্রিদা সিমোনিতে।এ দেশের মানুষ
লিথুয়ানীয় ভাষায় কথা বলে।২৫,২০০ বর্গমাইলের এই দেশের জনসংখ্যা ২৮লক্ষ ১০হাজার
৮৬৫জন।
ইউরোপের মাঝে ৫০টির বেশি স্বাধীন যার মাঝে লিথুনিয়া অন্যতমদের একটি।তবে প্রচার
না থাকায় আমরা অধিকাংশ মানুষেরা এই দেশ সম্পর্কে বেখবর।জনসংখ্যা কম হলেও এই
দেশে কাজ পাওয়ার অনেক সম্ভবনা রয়েছে যার ফলে বর্তমানে প্রতি বছর অনেক মানুষ এই
দেশে কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে।
তাহলে অনেক ডিটেলসই তো দিলাম আপাতত জানার জন্য এইটি যথেষ্ট এর চেয়েও যদি বেশি
জানতে চান তবে স্টি কমেন্টে বলুন তাহলে পরবর্তীতে আমি তা নিয়ে লিখার চেষ্টা
করবো।
ইউরোপ মহাদেশের সুন্দর জায়গা সমূহ
আপনারা তো অনেক জ্ঞানী সেহেতু এতক্ষনে পড়ার মাধ্যমে আশা করি বুঝেই গেছেন যে
লিথুনিয়া ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত একটি রাষ্ট্র।এই ইউরোপে ৫০টি স্বাধীন
রাষ্ট্র রয়েছে যেমনঃ
লন্ডন,জার্মানি,ফ্রান্স,ইতালি,রাশিয়া,নরওয়ে,সুইডেন,লিথুনিয়া,ডেনমার্ক,ফিনল্যান্ড,পর্তুগাল,ক্রোয়েশিয়া
ইত্যাদি।এদের মাঝে সবচেয়ে সুন্দর দেশ গুলো হলোঃ
ফ্রান্স,জার্মানি,সুইজারল্যান্ড,যুক্তরাজ্য,গ্রিস।
ফ্রান্সঃ
- মন্ট সেন্ট মিচেল,প্যারিস,আইফেল টাওয়ার রয়েছে এইখানে,রোমান্টিক শহরও বলা হয়ে থাকে।
লন্ডনঃ(আমার ব্যাক্তিগত পছন্দ)
- হাইড পার্ক,লন্ডন আই,লন্ডন টাওয়ার ব্রিজ,ব্রিটিশ জাদুঘর
সুইজারল্যান্ডঃ
- লুসার্ন,জুরিখ
ইতালিঃ
- ভেনিস (আমার ব্যাক্তিগত পছন্দ),ফ্লোরেন্স,রোম
আসলে এক ব্লগে সব জায়গার নাম উল্লেখ করা সম্ভব নয়।আর এর বাইরেও আরো সুন্দর সব
জাইয়গা থাকতে পারে যদি আপনাদের মাঝে কেউ সেইখানে গিয়ে থাকেন তবে অবশ্যই কমেন্টে
জানাতে ভুলবেন না আমিও অপেক্ষায় রইলাম।
লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসার শর্তাবলী
অনেক তো ইউরোপ ঘুরে বেড়ালেন পড়ার মাধ্যমে এইবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিকে আসি
অর্থাৎ লিথুনিয়াতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার পাওয়ার শর্তাবলী।এতক্ষণ ধরে মনোযোগ
দিয়ে পড়ছেন,অথচ যদি ভিসা ক্যান্সেল হয়ে যায় তবে মন খারাপ হয়ে যাওয়াটাই সাভাবিক।
তাই এই টপিকটি একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন যেনো আমার পরবর্তী ব্লগটি লিথুনিয়া তে
বসেই পড়তে পারেন।এবং আমার বিশ্বাস আপনাদের দ্বারাই সম্ভব।আপনি যদি কোন এজেন্সির
মাধ্যমে যেতে চান তবে তারাও এইসব ক্লিয়ারান্স করার মাধ্যমেই আপনাকে তৈরি
করবে।তবে চলুন পড়ে নেওয়া যাক।
- প্রথমত,বৈধ পাসপোর্ট
- অ্যাপ্লাই-কারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি (পরিমাণ কমবেশী হতে পারে তাই লিখলাম না)
- পুলিশের ক্লিয়ারেন্স সনদ/সার্টিফিকেট
- জাতীয় পরিচয় পত্র আইডি কার্ড
- ইউরোপ দেশের মতো নিজের CV
- IELTS স্কোর রেজাল্ট (যদি প্রয়োজন হয়)
- সকল প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সার্টিফিকেট
- পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা (এটি অন্য ভিসার জন্য)
- মেডিকেল রিপোর্ট
- লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন কপি
- কাজ পাওয়ার অফার লেটার
- নির্দিষ্ট কোন স্কিল সার্টিফিকেট (যদি থাকে, থাকাটা উচিত)
এতগুলো স্টেজের কাগজ-পত্র যদি সঠিক ভাবে জমা দিতে পারেন তবে আপনার লিথুনিয়া
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।আশা করি উল্লেখিত কাগজ-পত্রগুলো সব
ঠিক রেখেই কাজগুলো করবেন।
লিথুয়ান ওয়ার্ক পারমিট এজেন্সির তালিকা
এই বিষয়টি নিয়ে আপনাদের অনেকেরই জিজ্ঞাসা থাকতে পারে, তবে সত্য বলতে আমি আসলেও
আপনাদের জন্য বিভিন্ন রিসোর্সেবল এবং রিলাইয়েবল সাইটে খুঁজেছি।কিন্তু এখন
পর্যন্ত কোন এজেন্সি পাইনি যা আপনাদের জানাতে পারবো।
তবে আপনি যদি কোন এজেন্সির মাধ্যমে লিথুনিয়াতে যেতে চান তবে অবশ্যই তাদের
নিম্নে দেওয়া বিষয় গুলো ভালোভাবে চেক করে নিবেন।
- যে এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন তাদের ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া সাইট।
- তাদের বিগত ক্লায়েন্ট দের রিভিও দেখবেন।
- তাদের সাথে আসলেই লিথুনিয়া এমব্যাসির যোগাযোগ আছে কিনা সেটি পরখ করুন।
- মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রতারক এজেন্সি কম টাকা বলে তাদের জালে ফাঁসানোর চেষ্টা করবে এই পথে কখনোই পা বাড়াবেন না।
- আগে থেকেই কখনো অ্যাডভান্সে বেশী টাকা দিয়ে দিবেন না।
- এজেন্সির সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিবেন।
- দরকার পড়লে বেশিক্ষণ তাদের সাথে আলোচনা করবেন এবং সঙ্গে অভিজ্ঞ কাউকে রাখবেন।
আর একটি দিকনির্দেশনা বাংলাদেশ থেকে লিথুনিয়া যাওয়ার কোন নিজস্ব ভিএফএস
সেন্টার নেই,তাই আবেদনকারীদের প্রতিবেশী দেশ, যেমনঃ ভারতের বা নেপালের ভিএফএস
সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।আর এইসব কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ভারতে
অবস্থান করতে হবে।
লিথুনিয়া দেশের সেনজেন সুবিধা সমূহ
আমি হয়তো আর্টিকেলের শুরুতেও বলেছিলাম লিথুনিয়া সেনজেন অধিভুক্ত একটি দেশ।শুধু
এটি নয়,ইউরোপ মহাদেশের ২৯টি দেশের এই সুবিধা চালু রয়েছে।সেনজেন বলতে বুঝায় এই
২৯ টি দেশের মাঝে আপনি আলাদা অতিরিক্ত কোন ভিসা ছাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
- জার্মানি
- পর্তুগাল
- ইতালি
- অস্ট্রিয়া
- পোল্যান্ড
- ডেনমার্ক
- স্লোভেনিয়া
- ফিনল্যান্ড
- স্লোভাকিয়া
- নেদারল্যান্ডস
- গ্রীস
- ক্রোয়েশিয়া
- সুইজারল্যান্ড
- হাঙ্গেরি
- লিচেন্সটাইন
- ফ্রান্স
- মাল্টা
- চেক রিপাব্লিক
- লিথুনিয়া
- লাটভিয়া
- লুক্সেমবার্গ
- স্পেন
- আইসল্যান্ড
- এস্তোনিয়া
- সুইডেন
- বেলজিয়াম
- নরওয়ে
এখন এই সেনজেন ভুক্ত দেশের সুবিধাসমূহ নিয়ে কয়েকটি পয়েন্ট উপস্থাপন করবো।
- শুরুতেই যেটা বললাম একটি সেনজেন ভিসার মাধ্যমে আপনি সেনজেনভুক্ত সকল দেশগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।
- সেনজেন ভুক্ত হওয়ায় এইসব দেশের মাঝে কোন অভ্যন্তরীণ বাধা বিপত্তি নেই,তাই ভ্রমণ করতে কোন সমস্যা হবে না।
- যারা ভ্রমণ প্রিয় তারা স্বল্প সময়েই অনেক দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।
লিথুনিয়া দেশে কাজের বেতন কত হয়ে থাকে
এখন আসা যাক আজকের আর্টিকেলের আপনাদের সকলের পছন্দের টপিকে,অবশ্য শুধু পছন্দ নয়
আপনাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসা যে বিষয়টা নিয়ে,"লিথুনিয়া দেশে কাজের বেতন কত হয়ে
থাকে?"অবশ্য যেহেতু টাকার জন্যই যেতে চাচ্ছেন তাহলে এই প্রশ্ন আসাটা
স্বাভাবিক।আবার অনেকে এইটাও মনে করবেন যে "কাজ পাওয়া যদি সহজ হয় তাহলে বেতন কত
টাকা দিবে"।
আসলে দেখেন এইভাবে এইসব উত্তর তো নির্দিষ্টভাবে বলা মুশকিল হবে।কারন,প্রতিটি
চাকরীর জন্য আলাদা আলাদা বেতন।আর বাকিটা নির্ভর করে আপনার নিজের অর্জিত স্কিল
এবং দক্ষতার উপরে।এখন এইটা খুবই স্বাভাবিক যদি আপনি স্কিলড হয়ে থাকেন তবে আপনার
বেতন বেশি হবে।কিন্তু আসলে কত?চলুন জেনে নিই
যদি ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ি বলি,তাহলে গড়ে একজন লিথুনিয়া প্রবাসির মাসে আয় হয়ে
থাকে ২০০০ ইউরো।তবে যেহেতু আপনারা প্রথম যাবেন আপনাদের বেতন হবে আনুমানিক ৫০০
থেকে ৬০০ ইউরোর মধ্যে।
বাংলাদেশি টাকায় ৫০০ ইউরোর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০,০০০৳ টাকা।একটু ধৈর্য
ধরে যদি কাজ করতে পারেন এবং ভালো যেকোনো স্কিল জানা থাকে তবে এর পরিমাণ আরো
বাড়বে।তাই আমার সাজেশন হবে আপনাদের প্রতি স্কিল গ্রো করে তবেই সেইখানে যান।
আরে ভাই টাকার এমাউন্ট শুনে কি ভিসা অ্যাপ্লাই করতে দৌড় দিয়েছেন নাকি?থামেন
থামেন পুরা আর্টিকেল টা শেষ করে যান😎।
স্টুডেন্ট ভিসা খরচ কেমন লিথুনিয়ায়
আপনারা অনেকেই আছেন যারা আজকের ব্লগ শিরোনাম দেখে এইখানে এসেছেন তবে আপনারা
খুঁজছেন স্টুডেন্ট ভিসার তথ্য।কারন,এমন দেশটির সুবিধা পড়ার পরে অনেকেরই হয়তো
এইখানে যেতে ইচ্ছা করছে,কিন্তু আপনারা স্টুডেন্ট সমস্যা কিসের রে ভাই আপনি
চাইলে আপনার মাস্টার্স করতে এইখানে যেতে পারবেন।
জাস্ট চিল ব্লগের এই টপিকটা আপনাদের জন্যই লিখা,যদিও এই ধারণা ডিগ্রির
মান,বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে।তাই লেটেস্ট আপডেট সব
সময় রাখবেন যদিও আমি লেটেস্ট দেওয়ার চেষ্টায় করবো।তবে চলুন জানি।
লিথুনিয়ার কিছু জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় নিম্নে দেওয়া হলোঃ
- ভিলনিয়স ইউনিভার্সিটি
- লিথুয়ানিয়ান ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস
ভিলনিয়স ইউনিভার্সিটি
স্নাতকঃ প্রতিবছর বাংলাদেশি টাকায় প্রায় খরচ হবে ১,৫০,০০০টাকা ।
স্নাতকোত্তরঃ প্রতিবছর প্রায় ১,১৫,০০০টাকা খরচ হবে বাংলাদেশি
টাকায়।
পিএইচডিঃ প্রতিবছর বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯,৮০,০০০টাকা খরচ হবে।
বেশি আর লিখছি না এই টপিকে পরবর্তীতে আমি আপডেটেড করে দিবো সমস্যা নেই।
লিথুনিয়ায় ছাত্রদের বেস্ট পার্টটাইম জব সমূহ
স্টুডেন্ট ভিসায় যদি গিয়ে থাকেন তবে তো আপনি অন্যদের মতো কাজ করতে পারবেন
না।অবশ্য এইটা একটা মিথ জাস্ট চাইলে সব কিছুই সম্ভব।তবে আমরা যেহেতু ছাত্র
বয়সটাও জোয়ান তাই আমাদের পরিশ্রম বেশি করতে হবে যেন বাসাই টাকা পাঠাতে পারি তার
সাথে নিজের থাকার খরচ উঠাতে পারি।তাই এমন কিছু পার্টটাইম কাজের নাম আজকে বলে
দিবো যা করে আপনি ইনকামও করতে পারবেন তার সাথে নিজের বাঁকি কাজগুলোও করার সময়
বের করতে পারবেন।
- ক্যাফে শপে কাজ করা
- ডাটা এন্ট্রির কাজ করা এটি ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যেও পড়ছে
- রেস্টুরেন্টে জব করা
- বিভিন্ন বিল্ডিং এর নির্মাণে হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে কাজ করতে পারবেন
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন
এমন সব ছোট ছোট কাজ সপ্তাহে ৫ দিন করে ৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন।যদি মাস শেষে
৫০০ ইউরো আসে তবে আমার মনে হয়না এইটা খুব একটা খারাপ বেতন একজন স্টুডেন্টের
জন্য।আরেকটি বিষয় আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং পারেন তবে তো আপনি ঘরে বসেই সে দেশে
ইনকাম করতে পারবেন যা আরো সহজতর।
আরো পড়ুনঃ কিভাবে ফ্রি টাকা ইনকাম করা যায়
আর আমরা বাঙালিরা আগে থেকেই ব্যবসা প্রেমি আপনি চাইলে সেইখানে বই কিনে সেগুলো
বিক্রি করে ব্যবসাও করতে পারেন।
লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কত টাকা লাগে
এতক্ষণ ধরে যেহেতু আর্টিকেল টা পড়ছেন তাহলে নিশ্চয়ই এই টপিকটার জন্যেই অপেক্ষা
করছেন।তবে আর আমি আপনাদের এই ধৈর্য কে আর বাড়াবো না।প্রতিটি দেশে যেতেই ভিসার
জন্য খরচ আছে কারন আমরা এমন একটি দেশে আছি সে স্থান থেকে বিশ্বের এইসব দেশ
সম্পূর্ন বিপরীত দিকে অবস্থান করছে।
বিদেশে যেতে খরচ কতটুকু হবে তা নির্ভর করে আপনার ভিসার উপরে যে আপনি কোন ভিসাতে
সে দেশে যাচ্ছেন।আমাদের টার্গেট দেশ যেহেতু লিথুনিয়া তাই আমরা আজকে সেইখানে
যাওয়ার খরচ নিয়েই লিখবো।
আপনি যদি সরকারি ভাবে লিথুনিয়ার ভিসা পেয়ে থাকেন তবে তা আপনার জন্য কম খরচের
মধ্যেই হয়ে যাবে।তখন খরচ পড়বে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার মতো।আর আপনি যেহেতু ওয়ার্ক
পারমিট ভিসা তে যেতে চাচ্ছেন সেহেতু আপনার খরচ পড়বেঃ
ভিসার জন্য আবেদন ফিঃ ২০,০০০ টাকা
এজেন্সিকে দিতে হবেঃ ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা
ওয়ার্ক পারমিট প্রসেস করার খরচ পড়বেঃ ২,০০,০০০ টাকা
তাহলে মোট আনুমানিক খরচ দাঁড়ালোঃ ৭,০০,০০০ থেকে ৯,০০,০০০ টাকা
মনে হতে পারে এটি অনেক টাকা তবে সত্যি বলতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ভিসার
তুলনায় এর বাজেট কমই আছে সেই সাথে কাজ পাওয়ারও এক প্রকার সম্ভবনা আছে।
লিথুয়ানিয়ার আবহাওয়া সম্পর্কে জানুন
অনেকের কাছেই মনে হতে পারে এইটা আবার কেমন টপিক তবে আমার কাছে মনে হয় আজকের
ব্লগের সকল ইনফরমেশনের মতো এটিও অনেক গুরুত্বের।কারন,আমরা বাংলাদেশের নাগরিক
যেইখানের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ (Tenperate) যার অর্থ খুব বেশি শীত নয় আবার খুব
বেশি গরমও নয়।
আর লিথুনিয়ার আবহাওয়া মহাদেশীয় জলবায়ু (Humid Continental Climate) এই দেশে
চারটি ঋতু বিদ্যমান।এই দেশে শীতকালে তাপমাত্রা -০ ডিগ্রি তে নেমে আসে মাঝে মাঝে
এর চেয়েও নিচে নামে।সুতরাং বুঝায় যায় এইটি একটি শীতপ্রধান দেশ।
এইরকম পরিবেশের মানুষেরা যখন বিদেশে গিয়ে আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়াতে পারেনা তখন
মনে মনে কষ্ট পায়।তাই আমার সাজেশন হবে আপনি যে দেশেই যান না কেন সেইখানের
আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা এবং পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে যান তবেই বাহিরের দেশে সারভাইভ
করা আপনাদের পক্ষে সম্ভব হবে
লিথুনিয়ার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরমের মেয়াদ
একদম শেষে চলে এসেছি আর একটু কষ্ট করে পড়ে জেনে নিন লিথুনিয়ার ওয়ার্ক পারমিট
ভিসা আবেদন ফরমের মেয়াদ কতদিন।কারন এটি জানাটা গুরুত্বপূর্ণ।মূলত লিথুনিয়ার
ওয়ার্ক পারমিট ভিসার মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী।কারন, লিথুনিয়ার ভিসা রেসিও ৮০%।
সুতরাং অনুমান করতেই পারছেন এর মেয়াদকাল সম্পর্কে আর আপনি যেহেতু ওয়ার্ক পারমিট
ভিসায় গেছেন সেহেতু আপনার ভিসার মেয়াদ ডিপেন্ড করবে আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ
করছেন তার উপরে।
লেখকের মন্তব্যঃ লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরম
প্রিয় পাঠকেরা "লিথুনিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন ফরম" কি-ওয়ার্ডের আজকের ব্লগের একদম শেষ কথাতে চলে আসলাম।আমি যথেষ্ট চেষ্টা
করেছি সংক্ষেপে পূর্ণ ধারনা দেওয়ার যেনো একটি ব্লগ দেখলেই এই দেশ সম্পর্কে
আপনারা সম্পূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে পারেন।
পরিশেষে একটি কথায় বলবো যা সিদ্ধান্ত নিবেন ভেবে শুনেই নিবেন কারন এটি দেশের
মাঝে নয় যে মন খারাপ হলো চলে এলাম,আর যেকোনো অফিশিয়াল কাজ গুলো ভালো ভাবে
ধৈর্য নিয়ে পড়ে সম্পন্ন করবেন আবারো বলছি সঙ্গে অভিজ্ঞ কেউ থাকলে ব্যাপারটা
আরো ভালো হবে।তো আজ আমি যাচ্ছি এতক্ষণ ধরে পড়ছেন আমি আসলেই এটির জন্য কৃতজ্ঞ।
লিথুনিয়ার চক্করে পরবর্তি ব্লগটি কোন বিষয়ে চান সেইটি কমেন্ট করে জানাতে ভুলে
যাইয়েন না আবার😁।সকলেই ভালো থাকবেন, আমার জন্য দোয়া রাখবেন,
আস সালামু আলাইকুম।



The ClickEra এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। কারণ,আপনাদের প্রতিটি কমেন্টে আমরা নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পাই।
comment url