মুলতানি মাটি দিয়ে ব্রণ দূর করার নিয়ম

মুলতানি মাটি দিয়ে ব্রণ দূর করার নিয়ম নিয়ে আজকের ব্লগ লেখার কারন হলো, আমরা বর্তমানে যে সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগছি তার মধ্যে অন্যতম হলো ব্রণ সমস্যা। এই ব্রণ হওয়ার অনেকগুলো কারন রয়েছে যেমনঃ তেল বা ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার খাওয়া, পানি কম পান করা ইত্যাদি ।

মুলতানি-মাটি-দিয়ে-ব্রণ-দূর-করার-নিয়ম

এইসব কিছু নিয়েই আজকে আলোচনা করবো তার সাথে মুলতানি মাটির ব্যবহার এবং কিভাবে মুলতানি মাটি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করবেন এই নিয়েও আলোচনা থাকছে আজকের ব্লগে ,তাই ধৈর্য নিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন ।

পেজ সূচিপত্রঃ মুলতানি মাটি দিয়ে ব্রণ দূর করার নিয়ম

মুলতানি মাটি দিয়ে ব্রণ দূর করার নিয়ম

মুলতানি মাটি দিয়ে ব্রণ দূর করার নিয়ম সম্পর্কে অনেকেরই জিজ্ঞাসা রয়েছে যার কারণটা খুবই স্বাভাবিক । এই ব্রণ আমাদের চেহারার সৌন্দর্য ভাব টাকে নষ্ট করে থাকে। ব্রণ তৈরি হয় মূলত যখন আমাদের ত্বকের সেবাম বা তেল মৃত কোষের সেল দ্বারা আটকে যায় তখন ব্যাকটেরিয়া বাড়তে থাকে আর তখনই ব্রণ হয়ে থাকে। আবার বিভিন্ন হরমোনাল কারন, ত্বকের অযত্নের ফলেও এটি হয়ে থাকে।আমাদের মানসিক চাপ, খাবার খাওয়ার অনিয়ম থেকেও এটি হয়ে থাকে ।

এই ব্রণ দূর করার অনেক মাধ্যম রয়েছে যার মধ্যে একটি হলো মুলতানি মাটি । এই মুলতানি মাটি হলো একধরনের কাদামাটি যার ভিতরে অ্যালুমিয়াম সিলিকেট এবং ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড, আয়রন অক্সাইড এর মতো খনিজ পদার্থ থাকে আর এই উপাদান গুলো আমাদের ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং ত্বকের তেলভাব দূর করতে বিশেষ ভাবে উপকারি। যা ব্রণ নিরাময়েও সাহায্য করে থাকে ।
আর আজকের সম্পূর্ন ব্লগে আমরা এই মুলতানি মাটির ফেসপ্যাক কিভাবে বানাতে হয় এর সঠিক ব্যবহার, কেমন ফেসে দিতে পারবে এইরকম বিভিন্ন দিক নিয়েই আলোচনা করতে চলেছি জানতে হলে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন ।

মুলতানি মাটি চেনার আসল উপায় জানুন

আমাদের মাঝে বর্তমানে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা আমার এই পোস্ট পড়ছেন অথচ মুলতানি মাটি দেখতে কেমন এইটা জানেন না আর এইটা খুবই স্বাভাবিক । ফলে বাজারে যদি আপনারা এই মুলতানি মাটি কিনতে যান হয়তো আসল আর খারাপ এর মাঝে পার্থক্য করাটা মুশকিল হয়ে যাবে আপনাদের কাছে । তাই আসল মুলতানি মাটি চেনার উপায় গুলো জেনে নিন তাহলে পরবর্তিতে কোন সমস্যা হবে না ।
  • একটা জিনিসের মূল আকর্ষণই হলো তার বাহ্যিক অবস্থা অর্থাৎ তার রং । যদি আপনি আসল মুলতানি মাটি কিনতে চান তবে তার রং হবে বাদামী রঙের । এছাড়াও এটি হলদে বা ফ্যাকাসে বর্নের হয়ে থাকে । যদি এর বাইরে আপনি মাটি পেয়ে থাকেন যা দেখতে হয়তো একটু চকচকে বা একটু আকর্ষনীয় মনে হয় তবে সে মুলতানি মাটি কখনোই কিনবেন না কারন সেটি ভেজালযুক্ত মাটি। আর এটি ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হবে বেশি । তাই কেনার আগের অবশ্যই ভালোভাবে দেখে শুনে কিনবেন ।
  • আচ্ছা এই উপায়টি হয়তো একটু প্যারার মনে হচ্ছে আপনাদের কাছে । সমস্যা নেই এর চেয়েও সহজে বলার চেষ্টা করছি । আপনি যখন মুলতানি মাটি কিনতে যাবেন তখন সেটি কে আপনি হাতে নিয়ে ভালোভাবে যাচাই বাছাই করে দেখবেন সেটি আসল নাকি ভেজালযুক্ত । যদি হাতে নেওয়ার পড়ে মনে হয় গুড়ো ধরনের বা মসৃণ তবে বুঝে নিবেন সেটি আসল এতে ভেজাল নেই। কারন এটি সাধারণ মাটির মতোই ।
  • মুলতানি মাটি টি আসল না নকল সেটি বুঝার খুব সহজ মাধ্যম হলো তার গন্ধ । আমি শুরুতেইও বলেছি এটি সাধারন মাটির মতোই তো স্বাভাবিক ভাবেই এর গন্ধও সাধারণ মাটির মতোই হবে তবে যদি আপনারা কোন আলাদা সুগন্ধি পান তবে বুঝে নিবেন সেটিতে ক্যামিকেল মিশানো । কারন ক্যামিকেল না মিশালে মাটির গন্ধ স্বাভাবিক থাকবে । আর এইভাবেই গন্ধের মাধ্যমেও আপনি মুলতানি মাটিটি আসল নাকি নকল বুঝতে পারবেন ।
  • সব শেষ যে উপায় টি সেটি হলো মুলতানি মাটি আর স্বাভাবিক মাটির মতোই পানি মিশে পেস্ট হয়ে যায় । আর পেস্টটি যদি পানি থেকে তুলে কিছুক্ষনের জন্য রাখা হয় আর সেটি অন্য মাটির মতো শক্ত হয়ে যায় তবে বুঝে নিবেন সেটি আসল মাটি । আরো আরেকটি বৈশিষ্ট হলো নকল মাটি মুখে দিলেই জালাপোড়া শুরু হয়ে যাবে কিন্তু ভালো হলে সেটিতে কোন সমস্যা হবে না ।
এইসব উপায় গুলো যদি মেনে চলে আপনি মুলতানি মাটি কিনেন তবে আশা করা যায় আপনি আসল মাটি কিন্তে পারবেন । তবে আমার পারসোনাল সাজেশন হবে আপনি পরিচিত দোকান বা কাউকে সাথে নিয়ে যান যিনি এটি ব্যবহার করেন । আর অবশ্যই মেয়দ দেখে কিনবেন ।

মুলতানি মাটি মুখে ব্যবহারের নিয়ম

অনেক তো হলো মুলতানি মাটি চেনার উপায় জানা, শুধু কি জেনে কাজ হবে ব্যবহার বিধিও তো জানতে হবে নাকি ? কারণ একটি প্রোডাক্টের সর্বোত্তম রিভিও হলো তার ব্যবহার । আমরা শুরুতেই পড়েছি এই মুলতানি মাটি ত্বকের কোষ এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কতটা সহযোগিতা করে থাকে ।
এছাড়াও এটি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা নিরাময়েও অনেকে ব্যবহার করে থাকে ।অনেকে তো মেকাপ হিসেবেও এটি ব্যবহার করে থাকে । ব্যবহার করলেই তো জানবেন এর গুনাগুণ সম্পর্কে তবে চলুন মুলতানি মাটির মুখে ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
  • যদি আপনাদের ত্বকের ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইট হেডস সমস্যা থেকে থাকে তবে কিছু কাজুবাদাম এবং একটু গ্লিসারিন এর সাথে দুই টেবিল চামচ মুলতানি মাটি যোগ করে তা চেহেরা তে স্ক্রাব করুন আর ১৫-২০ মিনিট পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । এতে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় ।
  • যদি তৈলাক্ত ভাব দূর করতে চান তবে দুই টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সাথে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে সেটিকে পেস্ট বানিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন শুকিয়ে গেলে পরে ধুয়ে ফেলুন আর যদি ত্বক শুষ্ক হয় তবে এর সাথে সামান্য দুধ যোগ করতে পারেন ।
  • হলুদ যোগ করেও ব্যবহার করতে পারেন এর জন্য আপনাকে দুই টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সাথে এক টেবিল চামচ হলুদের গুঁড়া এবং পর্যাপ্ত গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন , এবং চোখের এলাকা এড়িয়ে মুখে ব্যবহার করুন । ১৫-২০ মিনিট পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ।
যেসব উপায় বললাম আপনারা চাইলে এইগুলো কে ফেসপ্যাক আকারেও ব্যবহার করতে পারেন। উত্তম ফলাফলের জন্য সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন রাতে ব্যবহার করুন । এতে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান হতে থাকবে ।

মুলতানি মাটি দিয়ে কি ফর্সা হওয়া যায় জানুন

অনেকেই মনে করেন মুলতানি মাটি ব্যবহার করলে ফর্সা হওয়া যায় । এই ধারনাটি কি সঠিক না কি ভুল চলুন পড়ে বুঝি । আমাদের সকলেরই ফর্সা হওয়ার ইচ্ছা বিশেষত মেয়েদের এটি বেশি । তাই তারা এই মুলতানি মাটি ব্যবহার করে থাকে ।কিন্তু অনেকেই আছে না বুঝেই চেহারার জন্য নামীদামী প্রোডাক্ট ব্যবহার করে চেহেরার ১২টা বাজিয়ে ফেলে কিন্তু মুলতানি মাটির সাহায্যে ঘরে বসেই প্রাকৃতিক উপায়ে তারা চাইলে নিজের চেহেরার যত্ন নিতে পারবে । তবে অনেকের ধারনা এইটি লাগালে ফর্সা হওয়া যায় এটা কতটুকু সত্য ?

উত্তর হলো আপনি একদম ফর্সা হবেন না তবে এতে থাকা অ্যালুমিয়াম সিলিকেট, ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড এইসব আমাদের চেহেরায় নিয়ে আনে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা । এছাড়াও এটি ত্বক কে মসৃণ আর ত্বকের বিভিন্ন দাগ দূর করতে সহায়তা করে থাকে । ফলে আমাদের চেহেরায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
মুলতানি-মাটি-দিয়ে-ব্রণ-দূর-করার-নিয়ম
এই প্রাকৃতিক ফর্সা হওয়ার জন্য আপনাকে শুরুতে  পরিমাণ মতো মুলতানি মাটি এর সঙ্গে পরিমাণ মতো বেসন, কাঁচা হলুদ বাটা , গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট বানান আর সেটি মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট পরে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে মাটির সাথে দুধও ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বক প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে ।

উত্তম ফলাফলের জন্য আপনি চাইলে দুই চামচ মুলতানি মাটির সাথে এক চামচ টক দই, একটু হলুদ একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারবেন । ফলে এটি আমাদের ত্বককে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে আর ত্বকের সকল সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে । এই দুই উপায় কে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করতে থাউন ইনশাআল্লাহ্‌ উত্তম ফলাফল পাবেন । তবে একটি কথা মাথায় রাখবেন আপনার শরীরের রঙ যেমন তেমনই আপনি সুন্দর ।

ব্রণ দূর করতে মুলতানি মাটির ব্যবহার

এখন আসি আমাদের মূল টপিক যা নিয়ে আমাদের আজকের ব্লগটি লেখা হয়েছে । শুরুতেই বলেছি আমাদের ত্বকের ব্রণ নিরাময়ে এই মুলতানি মাটি অনেক ভাবে সাহায্য করে থাকে । এখন আপনাদের বেশ কিছু নিয়ম আমি জানাবো এবং আশা করি যদি এইসব মেনে চলেন তবে আপনার ব্রণ কমে আসবে তবে চলুন শুরু করি ।
  • ত্বকের ব্রণ কমানোর জন্য প্রথম নিয়মটি হলো, শুরুতেই আপনাকে প্রথমে এক থেকে দুই চামচ মুলতানি মাটি নিতে হবে অতঃপর তার ভিতরে একটু গোলাপজল মেশাবেন তারপর এক চামচ চন্দনের গুঁড়া তা ভিতরে দিবেন । এই উপকরণ গুলো নিয়ে নিলে এইসব কে ভালোভাবে পেস্ট বানাবেন । পেস্ট বানানোপ হয়ে গেলে তা আলতোভাবে মুখে ব্যবহার করবেন । তারপর ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন অতঃপর ধুয়ে ফেলুন। এইভাবে যদি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন করতে পারেন দেখবেন ধীরে ধীরে ব্রণ কমে আসতে শুরু করেছে ।
  • এই গেলো প্রথম নিয়ম এখন আসি দ্বিতীয় নিয়মে , ত্বকের ব্রণ কমানোর জন্য শুরুতেই আপনাকে মুলতানি মাটির সাথে পরিমাণ মতো লেবুর রস, গ্লিসারিন, গোলাপজল মিশিয়ে একইভাবে সেটিকে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগাতে হবে এবং ২০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলতে হবে ।
  • তৃতীয় নিয়ম, ব্রণ নিরাময়ের জন্য আপনি এই নিয়মটিও ব্যবহার করতে পারেন এইটি করার জন্য শুরুতেই আপনাকে দুই চামচ মুলতানি মাটী নিয়ে হবে তারপর এর ভিতরে এক চা চামচ মধু মিশাতে হবে যদি ভালো মনে করেন তবে পানিও দিতে পারেন । হয়ে গেলে এই পেস্টটি আপনি আপনার যে স্থানে ব্রণ হয়েছে সেইখানে লাগাবেন । এটি ৩০ মিনিটের মতো রাখবেন তারপর এটি ধুয়ে ফেলবেন ।
  • ব্রণ নিরাময়ের জন্য চার নম্বর নিয়ম টি হলো অ্যালোভেরা জেলের ব্যবহার , হয়তো অনেকেই জানেন এই অ্যালোভেরা জেল কতটা উপকারী আমাদের ত্বকের জন্য । এটিও একই ভাবে মুলতানি মাটি , বেসনের সাথে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে । তারপর যেখানে ব্রণ রয়েছে সেইখানে ব্যবহার করতে হবে । তারপর সময় হয়ে এলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে । এইভাবে যদি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন করতে পারেন দেখবেন ধীরে ধীরে ব্রণ কমে আসতে শুরু করেছে।
  • শেষ নিয়মটি হলো, দুই চামচ মুলতানি মাটির সাথে এক চামচ মধু এবং এক চামচ নিম পাতার গুঁড়া, চাইলে কয়েক ফোঁটা গোলাপজল এবং লেবুর রস দিতে পারেন এই উপকরণ কে ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট করে নিতে হবে এবং একইভাবে এটিকে ফেসপ্যাক বানিয়ে চেহেরা তে লাগিয়ে রাখতে হবে ২০ মিনিট পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে ।
প্রায় ৫টি কার্যকারি নিয়ম আমি লিখে দেওয়ার চেষ্টা করেছি , এবং আমি বিশ্বাস রাখি আপনি যদি নিয়ম মেনে এই উপায়গুলো ব্যবহার করেন তাহলে খুব কম দিনেই আপনি ব্রণ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন এবং আপনার চেহারায় আবার আগের মতো উজ্জ্বলটা ফিরে আসবে বলে আমি আশা করি ।

ত্বকের যত্নে মুলতানি মাটির ব্যবহার

শুরুতেই আমরা বারবার বলেছি এই মুলতানি মাটি আমাদের ত্বকের জন্য কতটা উপকারি । আমাদের দেশের মেয়েরা এই মুলতানি মাটি কে তাদের স্কিনকেয়ার রুটিনের মাঝে রাখে তারা এই মুলতানি মাটির ফেসমাস্ক ব্যবহার করে থাকে । এখন আমরা জানবো ত্বকের যত্নে মুলতানি মাটির ব্যবহার সম্পর্কে ।

আমরা জানি যে মুলতানি মাটি আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে থাকে কারন এর ভিতরে থাকা উপাদান আমাদের ত্বকের ডেড সেল বা মরা কোষকে জীবিত করে তাদের উজ্জ্বলতা বাড়ায় আবার এটি আমাদের ত্বকের বিভিন্ন দাগ কেও সরাতে সাহায্য করে থাকে । নিম্নে আরো কিছু উপায় দিচ্ছি যাতে আপনাদের ত্বকের যত্নে আরেকটু সুবিধা হয় ।

এটি ব্রণের দার করে এইটাতো এর আগের টপিকে ভালোভাবে বললাম তবুও আর একটু বলি, মুলতানি মাটির সাথে যদি টমেটোর রস , কাঁচা হলুদ, চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে সপ্তাহে ২-৩ দিন লাগান তবে ব্রণের দাগ দূর করতে এটি সাহায্য করে থাকে ।
আমাদের যাদের মুখে সূর্যের আলোয় পোড়া দাগ হয়েছে যেটাকে পিগমেন্টেশন বলে এটি দূর করতে মুলতানি মাটির সাথে সামান্য ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করলে দাগ কে দূর করার পাশাপাশি ত্বককে নরম করে । মুখের তেলতেলে ভাব দূর করতেও এটি সাহায্য করে ।

মুলতানি মাটি আমাদের ত্বকের চামড়ার ছাপ বা চামড়া ঝুলে গেলে সেটিকে ঠিক করতে সাহায্য করে যার জন্য আমাদের মুলতানি মাটির সাথে এক চামচ টক দই এবং তার সাথে একটি ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে নিয়ে হবে ।

মুলতানি মাটি দিয়ে চুলের যত্নের উপায়

অনেকেই হয়তো এই হেডিং টা পড়ে অবাক হয়েছেন অবশ্য এইটা হওয়াটাও স্বাভাবিক । কারন এতক্ষন বললাম ত্বকের বিষয়ে আবার এখন বলছি চুলে ব্যবহার দ্বিধায় পড়ে গেলেন মনে হচ্ছে । চলুন তবে আপনাদের মনের দ্বিধাকে দূর করে বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নেওয়া যাক ।

এখন যে নিয়ম গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরবো তা যদি ঠিক ভাবে আপনারা সঠিক ভাবে মেনে চলতে পারেন তবে আশা করা যায় আপনাদের চুল নিয়ে যত সমস্যা এইসব কিছুটা হলেও কমে আসবে তাহলে চলুন শুরু করি ।

মুলতানি মাটির সঠিক ব্যবহার যদি আপনারা আপনাদের চুলে করতে পারেন তবে মাথার ত্বকে থাকা অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করতে এটি সাহায্য করবে । এরসাথে যাদের মাথায় খুশকির সমস্যা আছে এইটি কমে আসবে । আমাদের অনেকের চুল ঝরে পড়ে যাওয়া নিয়ে শত চিন্তা এই চিন্তারও সমাধান মিলবে এই মুলতানি মাটির ব্যবহারে ।

নিয়ম-১ঃ প্রথমে দুই চামচ মুলতানি মাটির সাথে পরিমান মতো টক দই এবং লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। মিশানো হয়ে গেলে এটিকে মাথার ত্বকে , চুলে এবং চুলের গোড়ায় দিতে হবে । এই মিশ্রণটি প্রায় ৩০ মিনিট মাথায় দিয়ে রেখে কুসুম গরম পানি আর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে হবে । তবে খেয়াল রাখা দরকার বেশি শক্তিশালী শ্যাম্পু যেন না হয়। এইটি নিয়ম করে ব্যবহার করলে চুল হবে মসৃণ ও নরম ।

নিয়ম-২ঃ প্রথমে দুই চামচ মুলতানি মাটির সাথে পরিমান মতো অ্যালোভেরা জেল এবং গোলাপজল মিশিয়ে নিতে হবে । একইভাবে এই মিশ্রণটি চুলে লাগাতে হবে । একইভাবে ৩০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলতে হবে এইভাবে যদি আপনি সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন ব্যবহার করেন তবে চুলের গোড়া শক্ত হবে আর চুল পড়া কমে আসবে এবং চুল ঘন হয়ে আসবে ।

নিয়ম-৩ঃ প্রথমে দুই চামচ মুলতানি মাটির সাথে একটা কাঁচা ডিম ভালোভাবে মিশিয়ে সেটিকে আগের মতোই চুলে লাগাতে হবে । তারপর যখন ৩০ মিনিট হবে তখন ধুয়ে ফেলতে হবে । এই ডিম চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অনেক উপকারি  ।

উপরে দেওয়া ৩টি নিয়ম যদি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করে তবে দেখবেন আপনার চুলের যত সমস্যা তা দিন দিন কমে আসছে ।

মুলতানি মাটির উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

এত পড়লেন একটু বিশ্রাম নিবেন না ? আচ্ছা চলুন বিশ্রাম নিতে নিতে মুলতানি মাটির বিশেষ উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই । এইটা তো ইতিমধ্যে বুঝতেই পেরেছেন এইটা একটা প্রাকৃতিক পদ্ধতি যা অনেক আগে থেকেই আমাদের ত্বকের পাশাপাশি আমাদের চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে ।

যদি আপনিও এর সঠিক ব্যবহার জানেন তবে আপনিও এর অনেক উপকারিতা লাভ করতে পারবেন । অনেকেই তো তাদের চেহেরার সৌন্দর্য আর চুলের যত্নের জন্য এটিকে ব্যবহার করে আসছে তবে এই মুলতানি মাটির আর কি কি উপকারিতা আছে চলুন সেটা নিয়ে আলোচনা করা যাক ।
  • ত্বকের ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে
  • উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে
  • তেলতেলে ভাবে কে দূর করতে সাহায্য করে
  • পায়ের তলা ফাটা দূর করতে সাহায্য করে
  • পায়ের তলার গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে
  • চুলের খুশকি দূর করতে সাহায্য করে
  • চুলের বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে
  • চুলের তেলতেলে ভাবে কে দূর করতে সাহায্য করে
আরেকটু বিস্তারিত নিম্নে আলোচনা করছি একটু ধৈর্য নিয়ে পড়বেন ।

মুলতানি মাটি দিয়ে ব্রণ দূর করার নিয়ম আমরা আলোচনা করেছি কিভাবে এর ভিতরে থাকা এন্টিসেপ্টিক গুণ আমাদের ব্রণ কে কমিয়ে আনতে সহায়তা করে । আর এই ব্রণ যখন কমে আসবে তখন ফেসে তেলতেলে ভাব টাও কমে আসবে । আমাদের ত্বক তেলতেলে হওয়ার কারনে অনেক সমস্যা হয় যার মাঝে অন্যতম হলো ব্রণ । তাই ত্বকের তেল ভাব কমাতে মুলতানি মাটির ভূমিকা রয়েছে।

আমাদের অনেকের মুখে খাল টাইপের দাগ রয়েছে যার কারনে চেহেরাটা দেখতে একটু বাজে লাগে আপনি যদি মুলতানি মাটির সাথে টমেটো আর লেবুর রস সেইখানে লাগান তবে অনেকাংশে দাগ কমে আসবে ।

মুলতানি মাটির অন্যতম উপকারিতা হলো এইটি আমাদের ত্বকের চামড়া ঝুলে যাওয়া ভাব কে কমিয়ে আনে । অর্থাৎ আমাদের ত্বককে টাইট করে রাখে । আমরা পড়েছি এইটি আমাদের রোদে পোড়া ভাব মানে ট্যানিং কমাতেও সাহায্য করে থাকে ।
মুলতানি মাটি আমাদের চুলেরও নানা উপকারে আসে যেমনঃ এটি খুশকি দূর করতে সাহায্য করে । এটি আমাদের চুলের শুস্কতা ভাবকে কমিয়ে আনে । আমাদের চুল পড়াকে কমিয়ে আনে আর চুলকে ঘণ করতে সাহায্য করে ইত্যাদি ।

আশা করি এত কথা বললাম তা থেকে বুঝতেই পারছেন এর উপকারিতা কতটা বেশি আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্য। যদি ভালোভাবে ব্যবহার করেন তবে আপনিও এই সুবিধাগুলো নিতে পারেন ।

মুলতানি মাটির অপকারিতা সম্পর্কে জানুন

আমরা সকলেই জানি প্রতিটা জিনিসের ভালো খারাপ উভয় নিয়েই এই দুনিয়া তেমনই ভাবে মুলতানি মাটির শুধু ভালো দিক সম্পর্কে জানলে হবেনা এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কেও জানতে হবে । তবেই আমরা এর সঠিক ব্যবহার করতে পারবো । ঠিক ধরেছেন এতক্ষন যেহেতু উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করলাম এখন আমরা নজর দিবো মুলতানি মাটির কিছু ক্ষতিকর দিকের উপর তো চলুন শুরু করি ।
  • শরীরে এলার্জি থাকলে ব্যবহার করা যাবে না
  • শুষ্ক ত্বক হলে ব্যবহার করা যাবে না
  • সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহার করা যাবে না
  • নিয়মিত ব্যবহার করা যাবে না 
আমাদের মধ্যে অনেকের এলার্জির সমস্যা রয়েছে বা চুলকানি সমস্যা আর যাদের এটি আছে তাদের এইটি ব্যবহার করা উচিত নয় । আবার যাদের সংবেদনশীল ত্বক তাদের কেউ মুলতানি মাটি ব্যবহার করা উচিত নয় । অনেকেই এটিকে প্রতিদিন ব্যবহার করে থাকে কিন্তু এটা করাও উচিত না কারন এটি অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায় ফলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় ।

অনেকেই মনে করেন এটি বেশি ব্যবহার করলে হয়তো চেহেরার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে কিন্তু আসলে তা নয় কারন এই মুলতানি মাটির প্রকৃতি গরম ফলে ত্বকে ফুসড়ি বা কোষ নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

আবার, যাদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল তাদের মুলতানি মাটি এড়িয়ে চলা উচিত কারন এটি সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহার হলে ত্বক নিস্তেজ হয়ে যায় আবার পরে লালচে ভাব এবং জ্বালাপোড়ার সমস্যা হতে পারে । বিশেষত ত্বকের কোন চিকিৎসা চললে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা উচিত।

মুলতানি মাটির বাজার মূল্য কত

অনেকেই এখন এই মুলতানি মাটির বাজার মূল্য নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন আপনাদের জন্য আমি আরো সহজ করে দিচ্ছি শুধু পড়তে থাকুন । এখন যদি আপনি মুলতানি মাটি অনলাইন থেকে কিনতে চান তবে ৮০ গ্রাম প্যাকেট এর দাম ১৭০টাকা পড়বে ।
মুলতানি-মাটি-দিয়ে-ব্রণ-দূর-করার-নিয়ম
তবে আমার সাজেশন থাকবে আপনি বাজারের কোন পরিচিত দোকান থেকে কিনেন তাহলে আসল মাটি পাওয়ার চান্স থাকবে বেশি বাজার থেকে কিনলে আপনি ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে এটি পেয়ে যাবেন তবে ব্রান্ড ভেদে দাম একটু কম-বেশি হতে পারে ।

মুলতানি মাটি সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসার উত্তর

যদিও আমি মুলতানি মাটি নিয়ে সকল কিছুই বলার চেষ্টা করেছি তবুও কিছু প্রশ্ন থেকেই যায় আপনাদের মনে তাই কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি যা আপনারা অনেকেই করে থাকেন ।
মুলতানি মাটি কি চুল সোজা করে ?
উত্তরঃ মুলতানি মাটি চুলকে মসৃণ করে কিন্তু স্থায়ী ভাবে চুল সোজা করে না ।

মুলতানি মাটি কয়দিন ব্যবহার করা উচিত ?
উত্তরঃ সপ্তাহে ২-৩ বারের বেশি নয় ।

মুলতানি মাটি কতটুকু ব্যবহার করতে হয় ?
উত্তরঃ ১- ১.৫ বা ২ চামচের বেশি ব্যবহার করা উচিত না ।

শেষ কথাঃ মুলতানি মাটি দিয়ে ব্রণ দূর করার নিয়ম

সুপ্রিয় পাঠকগণ "মুলতানি মাটি দিয়ে ব্রণ দূর করার নিয়ম" নীশের আজকের ব্লগের একদম শেষ কথাতে চলে এসেছি । ব্লগের এই জায়গাটা পড়ছেন মানেই শেষ পর্যন্ত পড়ছেন  সেটির জন্য আমি অবশ্যই আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আপনাদের এই পড়ার প্রতি যে ভালোবাসা সেটি অমর থাকুক। তো আজকের ব্লগের সমাপ্তিটা এইখানেই ঘটছে ।

আর পরবর্তি ব্লগটি কোন বিষয়ে চান সেইটি কমেন্ট করে জানাবেন আশা রাখছি । সকলেই ভালো থাকবেন, আমার জন্য দোয়া রাখবেন,
আস সালামু আলাইকুম ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

The ClickEra এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। কারণ,আপনাদের প্রতিটি কমেন্টে আমরা নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পাই।

comment url

Siam Sarar
Siam Sarar
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও দ্যা ক্লিকএরা ব্লগের অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।