বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সময় এবং ট্যুর প্লান
ভ্রমণ প্রেমীদের জন্য বান্দরবান একটি সুন্দর চয়েস।তবে বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সময় সম্পর্কে কি আমরা জানি? বা কোন সময়ে এইখানে গেলে আমরা প্রকৃতির প্রেমে পরবো এই নিয়ে আমাদের কৌতূহল অনেক।ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের জন্য আজকের লেখা আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা বান্দরবন সম্পর্কে সকল ধারণা লাভ করতে পারবেন।
সেইসাথে আমরা বান্দরবানের দর্শনীয় স্থান সমূহ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো এবং আপনারা সেইখানে ভ্রমনে গিয়ে যেনো ভালোভাবে থাকতে পারেন সেইজন্য কম খরচের রিসোর্ট সম্পর্কেও আলোচনা করতে চলেছি।সকল বিস্তারিত জানতে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন।পেজ সূচিপত্রঃ বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
- বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
- বান্দরবান জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
- বান্দরবানের দর্শনীয় স্থান সমূহের তালিকা
- বান্দরবানের দর্শনীয় স্থান নীলাচল
- বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকা সমূহ
- বান্দরবান ভ্রমণে যেসকল জিনিসপত্র সঙ্গে রাখতে হবে
- বান্দরবানের রিসোর্ট সমূহের বিস্তারিত পড়ুন
- বান্দরবান ভ্রমণের বর্তমান খরচ ২০২৬
- বান্দরবান ভ্রমণ সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসার উত্তর
- সমাপ্তিঃ বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সময় শীতকাল।বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন
কেন্দ্রের মাঝে অন্যতম এই বান্দরবান।বিশেষত আমরা যারা ভ্রমণ প্রেমী রয়েছি তাদের
জন্য বান্দরবান ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো স্পট।আমাদের দেশের মানুষেরা সচরাচর
ছুটির সময় বেড়াতে ভালোবাসে কারন আমাদের মাঝের বেশিরভাগ অংশই শিক্ষার্থী।
আর ছুটির সময়ই বেড়ানোর আসল মজা অনুভব করা যায়।বিশেষত শীতকাল টা আমাদের সকলের
জন্যই একটি কমফর্টেবল সময়,যেহেতু এইসময় পরীক্ষার প্যারা থাকে না।তাই ফ্যামিলি
থেকে কোন প্রকার চাপও থাকেনা।ফলে বেড়ানোর আনন্দটি ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।
নভেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝে যদি কেউ বান্দরবান যাওয়ার প্লান
করে তাহলে তারা এই ভ্রমণটিকে ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবে।কারন এইসময় আবহাওয়া
ঠাণ্ডা ও মনোরম থাকে।আর বান্দরবান যেহেতু পাহাড়ি এলাকা কুয়াশার চাদর টি খুব
ভালোভাবেই শরীরে আবৃত হয়,যা আমরা আমাদের ১ম ছবি তে দিয়েছি।
বান্দবানের জলপ্রপাত,ঝর্ণা এবং পাহাড় উপভোগের জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হয়না।আর
শীতকালে চারিপাশ নিরিবিলি থাকায় পরিবেশটা আরো সুন্দর দেখায়,তবে আপনারা চাইলে
বসন্তকালেও এইখানে ভ্রমণের জন্য আসতে পারেন।কারন সবুজের সমারোহ উপভোগের জন্য
বসন্ত সেরা এই সময়ে প্রকৃতি তার নিজ গুনে সাজে।আপনি যদি বান্দরবান ঘুরতে যেতে
চান তবে আমার সাজেশন থাকবে শীতকালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।
বান্দরবান জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সম্পর্কে তো জানালাম,তবে আপনি কি জানেন বান্দরবানের
পূর্বের অবস্থা কেমন ছিলো? বা এর নাম বান্দরবান রাখা হলো কেন? তাহলে চলুন
সংক্ষেপে জেনে নিই এই বান্দরবান নামের পেছনে একটি মজার ইতিহাস সম্পর্কে।
বান্দরবান বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগের, পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি অংশ ১৮৬০ সালে
ব্রিটিশরা এর নাম দেন হিল ট্র্যাক্টস।তৎকালীন সময়ে প্রতিটি নৃগোষ্ঠীতে এক-এক রাজা
নিযুক্ত করা হয় এবং বান্দরবান বোমাং রাজার অন্তর্ভুক্ত ছিলো ফলে এর আদি নাম ছিলো
বপমাং থং।
লোক-কথায় শুনা যায় এই বান্দরবানে একসময় অনেক বানর বাস করত,তারা পাহাড়ে লবণ খেতে
আসতো।পরবর্তিতে বর্ষায় ছড়ার পানি বেড়ে যাওয়ায় তারা আর পাহাড়ে যেতে পারেনা ফলে
তারা সারিবদ্ধ হয়ে ছড়া পার হয়।আর এই দৃশ্য দেখতে পায় মারমা জনপদের মানুষেরা।ফলে
তারা জায়গাটির নাম দেয় ম্যাঅকছি।
মারমা ভাষায় যার অর্থ বানর-বাঁধ।পরবর্তিতে ভাষার পরিবর্তন-বিবর্তন হতে হতে এর নাম
হয় বান্দরবান।এইখানে বর্তমানে ৪ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষ বসবাস করে।এবং এটি
বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনবসতি জেলা।
বান্দরবানের দর্শনীয় স্থান সমূহের তালিকা
বান্দরবান জেলার প্রাকৃতিক নিদর্শন গুলো যেমন আকর্ষনীয় তেমনই
পাহাড়,জলপ্রপাত,ঝর্ণা এবং নদ-নদী গুলো মুগ্ধ করবার মতো।মেঘেদের মাঝে অবস্থিত এই
স্থান কে বাংলাদেশের সুইজারল্যান্ড বলা হয়ে থাকে।এই বান্দরবান ভ্রমণ করলে যে
দর্শনীয় স্থান গুলো আপনাদের মুগ্ধ করবে এমন কিছু স্থানের তালিকা দেওয়া হলোঃ
- নীলাচল
- নীলগিরি
- দেবতাখুম
- টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট
- ভেলাখুম
- কেওক্রাডং
- চিম্বুক
- ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট
- আমিয়াখুম
- মিরিঞ্জা ভ্যালি
- মারায়ন তং
- তিন্দু, থানচি
- সুখিয়া ভ্যালি
- নাফাখুম
- লামা
- আলীর গুহা
এসকল স্থান ভ্রমণের জন্য একদম পারফেক্ট হবে,আপনি যদি বান্দরবান ভ্রমণের প্লান
করে থাকেন তবে তবে আমার সাজেশন থাকবে এসকল স্থান গুলো ঘুরে দেখার।প্রকৃতির এইসব
স্থান গুলো আপনার মন-মস্তিষ্ককে মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ট।
বান্দরবানের দর্শনীয় স্থান নীলাচল
বান্দরবানের সেরা ১০টি দর্শনীয় স্থান গুলোর মাঝে অন্যতম হলো নীলাচল।এটি
বান্দরবান থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়ায় অবস্থিত।আপনারা যদি
বান্দরবান থেকে নীলাচল যেতে চান তবে আপনাদের ১.৩ হাজার টাকার মতো খরচ হতে
পারে।
এই নীলাচল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২হাজার ফুট উঁচু হওয়ায় আকাশ পরিষ্কার থাকলে
এইখানে থেকে পর্যটকরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত টি উপভোগ করতে পারে।এটির অবস্থান
উঁচু হওয়ায় এইখানে হতে পর্যটকরা পুরো বান্দরবান শহর দেখতে পায়।
আমাদের আজকের আর্টিকেলের প্রথম ছবিটি নীলাচলের টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট থেকেই
নেওয়া।এইখানে থেকে আপনি চাইলে মেঘেদের স্পর্শ করতে পারবেন।লিখতে গিয়ে আমারই
সেইখানে যেতে ইচ্ছা করছে।আপনারা যদি বান্দরবান ভ্রমণে যাওয়ার প্লান করেন তবে
এইস্থানটি আপনাদেরও মুগ্ধ করবে।
বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকা সমূহ
কথায় আছে একেক স্থানের নির্দিষ্ট সভ্যতা সে স্থান কে অন্যদের চেয়ে বিশেষ করে
তোলে।কথাটি যেনো বান্দরবানের সাথে একদম মিলে যায়।বান্দরবান যেহেতু পার্বত্য
চট্টগ্রামে অবস্থিত সেহেতু সেইখানে বসবাস করে আমাদের দেশের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি
যেমনঃ চাকমা,মারমা ইত্যাদি।সেহেতু তাদের কিছু জনপ্রিয় খাবার রয়েছে যা একমাত্র
বান্দরবান গেলেই আপনারা উপভোগ করতে পারবেন।
মুন্ডিঃ এটি একধরনের আতপ চাল দিয়ে তৈরি সেদ্ধ নুডুলস যা খাবার সময়
শুকনো মরিচের গুড়া,লেবু,তেতুল,লবণ দিয়ে পরিবেশন করা হয়।কেউ চাইলে এর মাঝে সেদ্ধ
ডিমও দিয়ে থাকে।বলতে পারেন এটি কোরিয়ান দের রামেন এর মতো,কথাটা খুব একটা ভুল
নয়।
বাঁশ কোড়ল ভাঁজিঃ এটি একপ্রকার কচি বাঁশের রেসিপি যা প্রথমে সেদ্ধ
করে সরিষার তেল এর ভিতরে প্রয়োজন মতো লবণ,মরিচের গুড়ো দিয়ে রান্না করা হয়ে
থাকে।
সিদলঃ এটি একপ্রকার শুটকি মাছ যা রান্না করে খাওয়া হয়ে থাকে এটিকে আমরা
সাদা ভাতের সাথে সিদলের ভর্তা করে খেতে পারি।
বাঁশের ভাতঃ এটি সাধারন ভাতের মতোই খেতে তবে এটি রান্না হয় বাঁশের ভিতরে
তাই এটিকে বাঁশ ভাত বলা হয়ে থাকে।
এছাড়াও আরো বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ধরনের খাবারের রেসিপি রয়েছে যা তারা
তাদের ধর্মীয় উৎসব গুলোতে পরিবেশন করে থাকে।আপনারা কখনো বান্দরবান ভ্রমণের গেলে
এইসব ঐতিহ্যবাহী খাবার গুলোর স্বাদ নিতে পারবেন।
বান্দরবান ভ্রমণে যেসকল জিনিসপত্র সঙ্গে রাখতে হবে
বান্দরবান ভ্রমণকালে যেসকল জিনিসপত্র গুলো সঙ্গে রাখতে হবে এই টপিকটি আপনাদের
কাছে মনে হতে পারে আমি কেন লিখছি।আসলে যারা সেইখানে যাননি তাদের এই ধারনাটি আসা
খুবই সাভাবিক।আসলে বান্দরবান হলো সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা।
এইখানে বেশি পাহাড় থাকায় রাস্তা গুলো উঁচু-নিচু হয়ে থাকে ফলে পড়ে যাওয়ার
সম্ভাবনা থাকে,আবার স্থানটি বড় হওয়ায় যারা প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন তাদের পথ ভুল
করার সম্ভবনাও থাকে,এর পাশাপাশি যেহেতু শুরুতেই বললাম এটি একটি পাহাড়ি জায়গা
সেহেতু নেটওয়ার্কের সমস্যা হয়ে থাকে।ঘনবসতি কম থাকায় ফোন চার্জে দেওয়ার
ব্যবস্থা নাই বললেই চলে।
আরে ঘাবরিয়ে যাচ্ছেন নাকি? চিন্তার কোন কারণ নেই।প্রকৃতির গহীন অরন্যে যেতে হলে
এতটুকু কষ্ট তো করায় যায়।তাই চলুন জেনেই নিই কোন জিনিসপত্র গুলো কাছে রাখা বেশি
জরুরি।
- পাহাড়ে ট্রেকিংয়ের জন্য ভালো মানের গ্রিপওয়ালা জুতা ব্যবহার করতে হবে।
- সঙ্গে সবসময় মিনারেল পানি রাখতে হবে।চাইলে ফ্লাক্সে গরম পানিও রাখতে পারেন এটি বেশি ভালো।
- যেসকল এলাকায় নেটওয়ার্ক দুর্বল সেইখানে যাওয়ার পূর্বে আগে থেকে অন্যদের জানিয়ে রাখুন
- সঙ্গে আপনাদের বাজেটের বাইরেও কিছু অতিরিক্ত টাকা রাখুন।
- চার্জের দরকার হবে সেহেতু একটি ভালোমানের পাওয়ার ব্যাংক রাখুন।
- পাহাড়ি এলাকায় মশা বেশি তাই সঙ্গে কয়েল রাখুন।
- NID কার্ড সঙ্গে রাখুন।
- আমার সাজেশন থাকবে একটি গাইড নিয়ে নিন,তাহলে দুর্গম স্থানে ভালো ভাবে চলতে পারবেন।
উক্ত উল্লেখিত জিনিসপত্র গুলো সঙ্গে রাখলে বলা যায় কোন প্রকার ঝামেলায় পড়া
ছারাই ভ্রমণটি উপভোগ করতে পারবেন।
বান্দরবানের রিসোর্ট সমূহের বিস্তারিত পড়ুন
বান্দরবানে ভ্রমণের মাঝে বিশ্রামের জন্য আমাদের থাকার জায়গার প্রয়োজন হবে
এছাড়া পরিবার নিয়ে গেলে সেইখানে ছোট বাচ্চাদের জন্য একটি থাকার জায়গার
প্রয়োজন।বান্দরবান একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এইখানে বেশ কিছু ভালো
মানের রিসোর্ট এবং হোটেল রয়েছে।এখন চলুন জেনে নিই এইসব রিসোর্টে থাকার জন্য
কেমন খরচ পড়তে পারে এ সম্পর্কে।
আমি এইখানে আপনাদের থাকার জন্য কিছু ভালো মানের বিলাসবহুল হোটেল বা রিসোর্টের
নাম লিখে দিচ্ছি,আপনাদের যদি বাজেট বেশি থাকে তবে এইসব হোটেলে থাকতে
পারবেন,আর এইসব রিসোর্ট থেকে বান্দরবানের ভিউ গুলো ভালোভাবেই উপভোগ করতে
পারবেন।
- সাইরু হিল রিসোর্ট (১১ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা)
- নীলাচল নীলাম্বরী রিসোর্ট (৪ হাজার টাকা+)
- হোটেল হিল ভিউ (২ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা)
- নীলগিরি হিল রিসোর্ট (৮ হাজার টাকা থেকে ১৩ হাজার টাকা)
- ভেনাস রিসোর্ট (৪ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা)
বিলাস বহুল হোটেলর থাকা খরচ সম্পর্কে জানলাম এখন আপনাদের জন্য স্বল্প বাজেটের
কিছু হোটেলের তালিকা দিচ্ছি যেইখানে আপনারা থাকতে পারবেন।
- হোটেল ফোর স্টার (১ হাজার টাকা থেকে ২.৫ হাজার টাকা)
- হোটেল গ্রীনল্যান্ড (১.৫ হাজার টাকা থেকে ৩.৫ হাজার টাকা)
- পর্যটন মোটেল (১.৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা)
- হিল প্যালেস রিসোর্ট (২ হাজার থেকে ৫.৫ হাজার টাকা)
উক্ত লিখিত টাকার পরিমাণ কম-বেশী হতে পারে তাই যাওয়ার পূর্বে আরেকবার চেক
করার অনুরোধ রইলো।আর আপনারা যদি ভালো মানের কক্ষ নিতে চান তবে আমার পরামর্শ
হবে পূর্বেই ঐসকল কক্ষ বুক করে রাখার জন্য।
বান্দরবান ভ্রমণের বর্তমান খরচ ২০২৬
এতক্ষণ পড়ে যারা বান্দরবান যাওয়ার প্লান করছেন তাদের জন্য এই টপিকটি
গুরুত্বপূর্ণ।এছাড়াও যারা আগামীতে বান্দরবান যেতে চাচ্ছেন তারাও এটি পড়ে একটি
স্বচ্ছ ধারনা রাখতে পারেন।প্রথমত যদি বলতে হয় বান্দরবান যেতে কেমন খরচ হবে এর
ইকযেক্ট ধারনা দেওয়াটা একটু মুশকিল।
কারন আপনার চলাফেরার উপর আপনার বাজেট বা খরচ নির্ভর করে থাকে।যদি ভালোভাবে ভ্রমণ
করতে চান তবে খরচের দিকে তাকালে তো হবেনা কারন আপনি এসেছেন এইখানে উপভোগ
করতে।তবুও আমি আপনাদের জন্য একটি সাধারণ ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
বান্দরবানে আপনারা সরাসরি ট্রেনে বা বাসে যেতে পারবেন না।প্রথমে আপনাকে বাসে বা
ট্রেনে চট্টগ্রামে যেতে হবে তারপরে সেইখানে থেকে বান্দরবান যেতে হবে, তাই আমি
ঢাকা,রাজশাহী,খুলনা,সিলেট থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াত খরচ সম্পর্কে লিখে দিচ্ছি
আপনারা সে হিসেবে আপনাদের বাজেট নির্ধারণ করতে পারেন।
| ঢাকা | রাজশাহী | খুলনা | সিলেট |
|---|---|---|---|
| ৬৫০টাকা - ২০০০টাকা | ১১০০টাকা - ২০০০টাকা | ৮০০টাকা - ২০০০টাকা | ৮০০টাকা - ১০০টাকা |
চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান পর্যন্ত আপনাদের বাস ভাড়া পড়বে প্রায়
২০০ টাকার মতো।বর্তমানে সকলে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্যে যায় কারন এতে মোট খরচ কম
হয় এবং এর সাথে বান্দরবানের সকল স্থানে যাতায়াত,হোটেল ভাড়া,খাবার খরচ যুক্ত
থাকে।আপনি যদি ট্রাভেল এজেন্সির সাথে যান আপনার থাকার হিসেব করলে ২দিন এবং ৩
রাতের জন্য খরচ পড়বে প্রায় ৭০০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকার মাঝে।
অবশ্য আপনারা যদি বন্ধু-বান্ধব মিলে বান্দরবান ঘুরতে যেতে চান তবে আপনাদের খরচ
পড়বে প্রায় জনপ্রতি ১২০০০টাকা থেকে ১৫০০০টাকার মাঝে।আমি আপনাদের খরচের
তালিকা করে দিলে সেটির সাথে খরচের পরিমান নাও মিলতে পারে তাই আমি আপনাদের সহজেই
জানিয়ে দিলাম।তবুও ভ্রমণের পূর্বে আরেকবার খরচের তালিকা গুলো দেখে নিবেন,তাহলে
ভ্রমণটি আপনাদের জন্য সহজ হবে।
বান্দরবান ভ্রমণ সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসার উত্তর
বান্দরবান ভ্রমণ করতে যেহেতু আমরা করতে আগ্রহী সে কারনে আমাদের মনে কিছু
প্রশ্ন আসতেই পারে।তাই আমি এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি যা
আপনারা জিজ্ঞাসা করে থাকেন।
বান্দরবান ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ২০২৫ কি এখনো রয়েছে?
উত্তরঃ না।কেওক্রাডং,রুমা ও থানচি এখন খোলা হয়েছে সুতরাং এখন সেইখানে
আপনারা যেতে পারবেন।
কেওক্রাডং এর আসল উচ্চতা কত ফুট?
উত্তরঃ ৩,২৩০ ফুট,কেওক্রাডং এর উচ্চতা।
বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর জায়গার নাম কি?
উত্তরঃ নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।
বান্দরবানের আদি নাম কী?
উত্তরঃ বোমাং থং
আরো পড়ুনঃ আপনার বিয়ে কবে হবে জানুন বিস্তারিত
বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনসংখ্যা কি বান্দরবান জেলায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
ঢাকা থেকে বান্দরবান যেতে কত সময় লাগে?
উত্তরঃ প্রায় ১০ঘন্টা
বান্দরবান দিয়ে কোন নদী বয়ে গেছে?
উত্তরঃ সাঙ্গু নদী।
সমাপ্তিঃ বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
প্রিয় পাঠকগণ "বান্দরবান ভ্রমণের উপযুক্ত সময়" সম্পর্কিত আজকের ব্লগের
একদম শেষ কথাতে চলে এসেছি।আশা করি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা সকলেই
বান্দরবান সম্পর্কে একটি ধারণা পেয়েছেন এবং ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতেও হয়তো
অনেকে শুরু করেছেন।😁
প্রকৃতির বুকে অবস্থিত এই জায়গার সৌন্দর্য সত্যিই আপনাকে মুগ্ধ করবে বলে
আমি আশাবাদী।আর ছুটি কাটাতে এর চেয়ে ভালো অপশন আর হয়না,তাই যারা এইবার
শীতের ছুটিতে যাওয়ার প্লান করছেন তাদের জন্য অগ্রিম শুভকামনা।
পরবর্তি ব্লগটি খুব দ্রুতই দেওয়ার চেষ্টা করবো ততক্ষন পর্যন্ত সকলেই ভালো
থাকবেন,আমার জন্য দোয়া রাখবেন।
আস সালামু আলাইকুম।



The ClickEra এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। কারণ,আপনাদের প্রতিটি কমেন্টে আমরা নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পাই।
comment url