ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান
ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান সম্পর্কে আমরা অনেকেই গুগলে বিভিন্ন সময়ে সার্চ করে থাকি।কারন আমরা সকলেই চাই আমাদের ত্বকের সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি করতে।কিন্তু কোন সাবান গুলো আমাদের রূপচর্চায় ব্যবহারের জন্য ভালো তা আমরা বুঝতে পারিনা।আবার অনেকের ত্বকের সাথে কোন সাবানের ব্যবহার টা ভালো হবে সেইটা জানেন না।
তাই আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করতে চলেছি কিভাবে সাবান ব্যবহার করে ত্বকের যত্ন
নিতে পারবেন।সাবানের সঠিক ব্যবহার এবং কি কি বিষয়গুলো সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রে
জানান জরুরি। তাই তাই আপনিও যদি চান আপনার চেহেরার উজ্জ্বলতা ভাব কে বৃদ্ধি
করতে তবে আজকের ব্লগটি আপনার মিস করা উচিত হবে না,তবে চলুন শুরু করি আজকের ব্লগ।
পেজ সূচিপত্রঃ ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান
- ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান
- ত্বকের যত্নে ph মান এর ভূমিকা
- রূপচর্চায় সাবানের সাথে মুলতানি মাটির ব্যবহার
- ত্বকের উজ্জ্বলতায় অ্যালোভেরার উপকারিতা
- রূপচর্চায় সাবানের সাথে নিমের ব্যবহার
- ব্রণের সমস্যার দূর করার জন্য ভালো সাবান
- সাবান ব্যতীত ফর্সা হওয়ার উপায়
- ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো ক্রিম
- সাবান এবং ফেসওয়াশ কোনটি বেঁছে নিবেন
- ত্বকের জন্য কোন সাবানটি ভালো হবে জানুন
- ভালো সাবানের বাজার মূল্য কত জানুন
- সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো করে থাকি
- সাবান নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসার সমাধান
- লেখকের মন্তব্যঃ ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান
ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান
আমাদের ত্বকের যত্নের জন্য আমরা বিভিন্ন
ক্রিম, ফেস পাওডার,কসমেটিকস ব্যবহার করে
থাকি।বলতে গেলে আগে চেহেরার যত্ন শুধু মেয়েদের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো কিন্তু
বর্তমানে ছেলেরাও বুঝতে শিখেছে ত্বকের যত্ন নেওয়াটা কতটা উপকারি তাদের জন্য।
তবে শুধু কসমেটিকস দিয়ে নয় আপনারা চাইলে সাবান ব্যবহার করেও ত্বকের উজ্জ্বলতা
ভাব কে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।বর্তমানে বাজারে এমন কিছু সাবান পাওয়া যাচ্ছে
যেগুলো আমাদের ত্বকের জন্য ভালো তার সাথে এইগুলো আমাদের উজ্জ্বলতা ভাব এবং
স্কিন টোন কে বৃদ্ধি করে।
আজকের এই টপিকে আপনাদের তেমনই কিছু সাবানের নাম জানাবো যেগুলো নিয়মিত
ব্যবহারের মাধ্যমে আপনাদের ত্বকেও ফিরে আসবে উজ্জ্বলতা ভাব এবং তার সাথে
এইগুলো আমাদের ত্বককে করবে মসৃণ একইসাথে আমাদের যাদের ত্বকের
তৈলাক্ততা ভাব বেশি এটি সেটিও দূর করবে,তবে
চলুন জেনে নেই।
- Glutathione Soap: আমাদের ত্বকে যাদের কালো দাগের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য গ্লুটাথিয়ন সাবান বেশ উপকারি।এই সাবান ত্বকের মাঝে থাকা মেলানিন গুলোকে কমাতে সাহায্য করে যার ফলে আমাদের চেহেরায় উজ্জ্বলতা ভাব ফুটে উঠে।এই সাবান আমাদের ত্বকের স্কিন টিস্যু কে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে যার ফলে আমাদের চেহারায় তারুন্যতা বজায় থাকে।
- Saffron Goat Milk Soap: এই সাবানটি নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বক হবে মসৃণ এবং উজ্জ্বল।এছাড়াও আমরা যারা রোদে ঘুরিয়ে বেড়িয়ে আমাদের স্কিনের কালার কে ডাল করে ফেলেছি তাদের জন্য এই সাবান খুবই উপকারি কারন, এটি রোদে পোড়া দাগ গুলো কে দূর করে।সেইসাথে আমাদের যাদের ত্বকে ব্রণজনিত সমস্যা রয়েছে এই সাবান ব্রণ গুলোকে কমাতেও সাহায্য করে থাকে।
- Kojic Whitening Soap:এই সাবানও ত্বকের মাঝে থাকা মেলানিন গুলোকে কমাতে সাহায্য করে এবং আমাদের চেহেরায় উজ্জ্বলতা ভাব আনতে সাহায্য করে।এছাড়াও এটি আনাদের ত্বকের পিগমেন্টেশন কে কমাতে সাহায্য করে।
- Goat Soap with Manuka Honey: আমাদের ভিতরে যাদের ত্বকে চুলকানি সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এই সাবান খুবই ভালো।এছাড়া এতে থাকা মধু আমাদের ত্বকের শুষ্কতা ভাব কে কমাতে সাহায্য করে।এছাড়া ত্বক কে বিভিন্ন সংক্রামণ থেকে সুরক্ষিত রাখে।
- Bee & Flower Burmese Sandalwood Soap: আমারা সকলেই জানি চন্দন আমাদের ত্বকের জন্য কতটা উপকারি এটি প্রাকৃতিকভাবে আমাদের ত্বককে ফর্সা করতে সাহায্য করে।এটি ত্বকের ময়লা ভাব দূর করতেও সাহায্য করে।এই সাবানও ত্বকের ব্রণ কমাতে সাহায্য করে থাকে।
এইগুলো সাবানের পাশাপাশি ডাক্তাররা একটি সাবান ব্যবহার করতে বলেন যার নাম
Kozicare Soap।আপনারা চাইলে উপরের যেকোন একটি সাবান পছন্দমতো ব্যবহার করতে
পারেন।আর ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত অন্য সাবান
ব্যবহার করবেন না।
ত্বকের যত্নে ph মান এর ভূমিকা
ত্বকের ph শুনে অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন এটি আবার কি? আসলে আমরা কখনো
লক্ষ্য করিনি তাই আমরা ph মান এর সাথে পরিচিত নই।তবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে
সবকিছুতেই ph এর ব্যবহার রয়েছে,সাবান থেকে শুরু করে চিপসের প্যাকেট পর্যন্ত
সকলের মাঝে ph রয়েছে।তবে চলুন পড়ে নেই এই ph কি, এর ভূমিকা এবং এটি নির্ণয়ের
উপায় সম্পর্কে।
আমরা দেখবেন রূপচর্চার কথা বলতে গিয়ে অনেকবার লিখেছি "আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয় বা
তৈলাক্ত হয় তবে এই উপায় গুলো মেনে চলুন"কিন্তু এটি আপনারা বুঝবেন কিভাবে?এটি
বুঝতেই সাহায্য করবে ph মান।
কোন দ্রবনের মাঝে থাকা হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের পরিমাপ কে ph বলে।ত্বকের
যত্নের জন্য এই ph মান ঠিক রাখা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।আমাদের ত্বকে থাকা
অ্যাসিডিক স্তর বাইরের ব্য্যকটেরিয়া বা ভাইরাস কে ত্বকে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাঁধা
দিয়ে থাকে।কিন্তু যখন ph মান বেড়ে যায় তখন ত্বকে অনেক প্রকার সমস্যা দেখা
দেয়।যেমনঃ ফাঙ্গাস,ব্রণ,তৈলাক্তভাব,চুলকানি ইত্যাদি।
কিন্তু আমরা যদি আমাদের ph মান ঠিক রাখি তবে এইসব সমস্যা হবে না।এই ph
মান ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত হয়ে থাকে।আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক ph মান হলো ৪.৫
থেকে ৫.৫।আর ph এর নিরপেক্ষ মান হলো ৭।এই মান ৭ এর নিচে অম্লীয় আর ৭ এর উপরে
ক্ষারীয়।আর এই ত্বকের যত্নে ph মান এর ভূমিকাঃ
- চেহেরায় যেকোনো দূষিত পদার্থ প্রবেশে বাঁধা দেয়
- ত্বকের আর্দ্রতা কে বজায় রাখে যা আমাদের ত্বককে নরম রাখতে সাহায্য করে থাকে
- আমাদের স্কিন টিস্যু ড্যামেজ হওয়া বা ড্যামেজ হওয়া স্কিন টিস্যু রিপেয়ার করতে এনজাইম ভুমিকা রাখে।এর এই এনজাইম গুলোকে ঠিক ভাবে কাজ করে যখন ph মান ঠিক থাকে।
রূপচর্চায় সাবানের সাথে মুলতানি মাটির ব্যবহার
রূপচর্চায় সাবানের সাথে মুলতানি মাটির ব্যবহার এই টপিকটা হয়তো পড়ে বুঝে গেছেন
আমি
মুলতানি মাটি দিয়ে সাবান তৈরির কথা বুঝাতে চেয়েছি।আমরা সকলেই জানি মুলতানি মাটি
আমাদের ত্বকের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।এটি আমাদের ত্বকের ব্রণসহ ত্বকের কালো
দাগ এবং তৈলাক্ততা ভাব কে কমাতে সাহায্য করে।
সুতরাং বুঝতেই পারছেন রূপচর্চার জন্য এটি কতটা উপকারি।আপনারা হয়তো দেখেও থাকবেন
আমাদের বাসার মা-বোনেরা এটি ব্যবহার করে থাকে।তবে চলুন মুলতানি মাটির সাবান
বানিয়ে সেটিকে রূপচর্চার কাজে ব্যবহার যাক।
শুরুতেই আমাদের প্রয়োজন হবে মুলতানি মাটি,গোলাপ
জল,চন্দন,অ্যালোভেরা,বেসন,ভিটামিন-ই ক্যাপসুল,সাবান বেজ,পানি।প্রথমে একটি
পাত্রে মুলতানি মাটি ,চন্দন দিয়ে, বেসন দিয়ে এতে সামান্য পানি এবং গোলাপ জল
দিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করুন।পাত্রটির পেস্টটি নাড়তে থাকুন।
আরো পড়ুনঃ মুলতানি মাটি দিয়ে ব্রণ দূর করার নিয়ম
তরল টি ঘন হয়ে এলে অন্য একটি পাত্রে বাকি গোলাপ জল এবং পেস্ট এর সাথে ভিটামিন-ই
ক্যাপসুল এবং সাবানের বেজ যুক্ত করুন।সাবানের বেজ টি গলে এলে এটিকে মুলতানি
মাটির পাত্রের ভিতরে দিয়ে যোগ করুন।এরপর এটি ভালোভাবে নাড়তে থাকুন।
এরপর কয়েক ঘণ্টার জন্য সেটিকে ঠাণ্ডা হতে রেখে দিন।পরবর্তিতে এটি ঠান্ডা হয়ে
এলে সেটিকে সাবানের আকৃতিতে কেটে ব্যবহার করতে পারবেন।আর এইভাবেই রূপচর্চায়
মুলতানি মাটির তৈরি সাবান ব্যবহার করতে পারেন।
ত্বকের উজ্জ্বলতায় অ্যালোভেরার উপকারিতা
ত্বকের উজ্জ্বলতায় অ্যালোভেরার উপকারিতা নিয়ে আমি বেশি লিখবো না কারন আপনারা
সকলেই এটি জানেন।বিশেষত আমাদের যাদের চুল
কোকড়ানো তারা এটি সম্পর্কে আরো বেশি জানেন বা পড়েছেন।কিন্তু শুধু চুলে নয়
ত্বকের যত্নেও অ্যালোভেরার উপকারিতা অনেক।
- আমাদের ত্বকের প্রাকৃতিক গ্লো বাড়াতে ,অ্যালোভেরা তে থাকা ভিটামিন এ,সি,ই এবং অ্যামিনো এসিড সাহায্য করে থাকে।
- রোদে পোড়া দাগ দূর করতেও অ্যালোভেরা সাহায্য করে।
- অ্যালোভেরাও ত্বকের ব্রণ এবং ব্রণের দাগ নিরাময়ে উপকারি হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।
- চামড়ার ভাজ বা এক কথায় চামড়ার ঝুলে যাওয়া রোধ করে অ্যালোভেরা।ফলে আমাদে চেহেরায় যৌবনের ছাপ বজায় থাকে।
- ত্বককে হাইড্রেট রাখতে অ্যালোভেরা সাহায্য করে থাকে।
আমি পয়েন্ট আঁকারে সংক্ষেপে আলোচনা করলাম কারন এর ব্যবহার অলরেডি আমাদের মাঝে
অনেকেই করেন তাই নতুন করে কিছু জানানোর প্রয়োজন নেই।আর আমরা যারা এর ব্যবহার
জানিনা তারাও এটি পড়ে জেনে গেলেন তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এখন থেকে এটি
ব্যবহার করতে পারেন।
রূপচর্চায় সাবানের সাথে নিমের ব্যবহার
রূপচর্চায় সাবানের সাথে নিমের ব্যবহার এই টপিকটা হয়তো অনেকে বুঝতে পারেন নি
বা অনেকের কাছে ব্যাপারটা Odd লেগেছে।আসলে আমি এইখানে বুঝাতে চেয়েছি
রূপচর্চার জন্য নিম পাতার সাবান আমরা ব্যবাওহার করতে পারি।
নিমপাতার উপকার সম্পর্কে জানেনা এমন কাউকে হয়তো খুঁজে পাওয়া মুশকিল।কারন আমরা
সকলেই জানি নিমপাতা আমাদের ত্বকের জন্য কতটা উপকারি।এমনকি নিমপাতা ত্বকের অনেক
রোগ যেমনঃ এ্যলার্জি,চুলকানি,ব্রণ,পক্স ইত্যাদি রোগের নিরাময়ক হিসেবে ব্যবহার
হয়।
নিমপাতা শুধু রোগ নিরাময় করে না বরং এটি আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে
সাহায্য করে থাকে।ফলে আমরা যারা নিমপাতা ব্যবহার করতে চাই তাদের এই নিমপাতার
সাবান বানানোর পদ্ধতিটা জেনে রাখা ভালো,তবে দেরি কিসের চলুন জেনে নিই কিভাবে
সহজেই নিমপাতার সাবান বানাবেন।
নিমপাতার সাবান বানাতে হলে শুরুতেই যে জিনিস গুলো আমাদের প্রয়োজনঃ ফ্রেশ
নিমপাতা,সোপ বেজ,লেবু,মধু,পানি,অ্যালোভেরা,অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল।
শুরুতেই আমাদের নিমপাতা গুলোকে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।এরপর পরিষ্কার নিমপাতা
গুলোকে ব্লেন্ডারে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে।ফলে নিম পাতার পেস্ট তৈরি হয়ে
যাবে এটি হয়ে গেলে ,আপনি সাবানের বেজ টি অন্য একটি পাত্রে গরম করতে দিবেন এটি
গলে আসলে তার ভিতরে নিমপাতার পেস্ট,নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল মেশানো শুরু
করুন।তার সাথে এর মান বৃদ্ধি করতে সঙ্গে রাখা লেবু বা মধু যোগ করুন।
কেটে রাখা অ্যালোভেরাও এর ভিতরে দিয়ে ভালোভাবে নাড়তে থাকুন।আপনি চাইলে এতে
ভিটামিন-ই ক্যাপসুলও দিতে পারেন।সবানের বেজ যদি না তাহকে আপনি গ্লিসারিন যুক্ত
কোন এতে যোগ করবেন।আমাদের সব কাজ হয়ে গেছে এইবার মিশ্রণ টি সম্পন্ন হওয়া
পর্যন্ত নাড়তে থাকুন।
সবশেষে এটিকে সাবানের আকৃত একটি পাত্রে শীতল করার জন্য রেখে দিন।অতঃপর ৫ থেকে ৬
ঘণ্টা অর্থাৎ একেবারে শক্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।যখন সেটি ঠাণ্ডা হয়ে
শক্ত হয়ে যাবে তখন সেটিকে আপনার পরিমাণ মতো করে কেটে নিন।এইভাবেই খুব সহজেই
আপনি নিমপাতার সাবান বানিয়ে রূপচর্চার কাজে এটিকে ব্যবহার করতে পারবেন।
আপনাদের একটি গল্প শোনাই,আমার শরীরে যখন পক্স হয়েছিলো আমিও তখন নিমপাতা গরম
পানিতে মিশিয়ে গোসল করতাম সে সাথে আমার শরীরের যে স্থান গুলো চুলকাতো সেইখানে
আম্মু নিমপাতা ব্যাবহার করতো।
ব্রণের সমস্যার দূর করার জন্য ভালো সাবান
আমরা অনেকেই হয়তো আগে পড়েছি সাবান ব্রণ ওয়ালা ত্বকের জন্য ব্যবহার করা ঠিক
নয়।হ্যাঁ,আপনাদের এই তথ্যটি ঠিক তবে এমন কিছু সাবান রয়েছে যা আমাদের ত্বকের
ব্রণ নিরাময়ে সাহায্য করে থাকে।তবে চলুন জেনে নেই।
- CeraVe
- Dr.S.Wongs Sulfur Soap
- Cetaphil Deep Cleaning Facial Bar
- Dove Sensitive Skin Beauty Bar
উল্লেখিত সাবান গুলো চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ব্যবহার না করার অনুরোধ
জানাচ্ছি,কারন ডাক্তার আপনাদের Ph নির্নয় করে তার মান অনুযায়ি সাবান
প্রেসক্রাইব করবেন।আর আপনি যদি চর্মরোগে আক্রান্ত থাকেন তবে আমার পরামর্শ হবে
ভালো কোন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য তবেই আপনার সমস্যার দ্রুত সমাধান মিলবে।
সাবান ব্যতীত ফর্সা হওয়ার উপায়
অনেকের মনে এই প্রশ্নটা আসতে পারে সাবান ব্যতীত ফর্সা হওয়ার কোন উপায় আছে
কিনা?তাদের বলবো একটু মনযোগ দিয়ে এই টপিকটা পড়ুন।দেখেন ভাই বা বোন সৃষ্টিকর্তা
আপনাকে যে শরীরের গড়ন বা রঙ দিয়েছেন সেটি কখনোই স্থায়ী ভাবে পরিবর্তন হবেনা
যদিও বর্তমানে কিছু মানুষ অপারেশনের মাধ্যমে তাদের রঙ চেঞ্জ করছে যা অত্যন্ত
ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ।তাই আপনি যদি প্রাকৃতিক ভাবে ফর্সা হতে চান তবে কয়েকটি
মাধ্যম এর সাহায্য নিতে পারেন যা আপনার উজ্জ্বলতা কে প্রাকৃতিক ভাবে ফুটিয়ে
তুলতে পারবে।
পানি পর্যাপ্ত পরিমানে পান করাঃআমাদের ত্বকের ভিতরে থাকা ৮০% জীবাণু এবং
ব্যকটেরিয়া কে পানি দ্বারা পরিষ্কার করা যায় ফলে প্রয়োজন মত পানি পান করতে হবে।
ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খাওয়াঃভিটামিন-সি যুক্ত খাবার বলতে আমি
লেবু,কমলালেবু,পেয়ারা,স্ট্রবেরী এবং বিভিন্ন সবুজ শাক সবজি খেতে পারে এইগুলো
আমাদের যেমন আমাদের শরীরের জন্য উপকারি তেমনই আমাদের ত্বকের জন্যও
গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লিনজার ব্যবহার করাঃ সাবান ব্যতীত ফর্সা হওয়ার উপায়
খুঁজলে ক্লিনজার একটি ভালো অপশন হতে পারে আপনাদের জন্য।
আরো পড়ুনঃ কোকড়ানো চুল সোজা করার ঘরোয়া উপায়
ঘুম সিডিউল ঠিক রাখাঃ অনেকেই অবাক হতে পারেন যে ঘুমানোর সাথে ত্বকের
উজ্জ্বলতার সম্পর্ক কি?আসলে সৌন্দর্য শুধু ফর্সা ভাবে নয় ন্যাচরাল ভাবেও ফুটে
ওঠে আর এই জন্যও আমাদের লেট করে ঘুমানো অভ্যাস কে ত্যাগ করে সঠিক ঘুমানোর
অভ্যাস গড়তে হবে।
সিরাম/ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেনঃ ভিটামিন সি বা কোজিক এসিড
সমৃদ্ধ সিরাম আমাদের ত্বকের বিভিন্ন দাগ দূর করে আমাদের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে
থাকে।সিরাম ২ থেকে৩ ফোঁটা দিয়ে ব্যবহার করতে হয়।
ভালো সানস্ক্রিন ব্যবহার করাঃরোদে সূর্যের তাপ এবং অতিবেগুনি রশ্মি থেকে
ত্বকের সুরক্ষায় সানস্ক্রিনের ভুমিকা রয়েছে।
ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো ক্রিম
ফর্সা হওয়ার ক্রিম সম্পর্কে অনেকেরই জিজ্ঞাসা থাকতে পারে।আসলে সত্য বলতে শুধু
সাবান দিয়ে নয় আরো কিছু প্রোডাক্ট রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের উজ্জ্বলতা বাড়াতে
সাহায্য করে থাকে।তবে আমি অনেক সার্চ বা গবেষণা করে কোন ভালো ক্রিমের নাম পাইনি
যা আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।তবে হ্যাঁ এইসব ক্রিম ত্বকের
যত্নের জন্য আপনারা ব্যবহার করতেই পারেন।যেমনঃ
- গ্লুটাথিওন ক্রিম
- ওলেয়
- গার্নিয়ার লাইট ক্রিম
- নেভিয়া এক্সট্রা হোয়াটেনিং ক্রিম
- একোয়া মেন ক্রিম ( পুরুষদের জন্য )
আমি আবারো বলছি এইসব ক্রিম ব্যবহার করলেই আপনি ফর্সা হবেন এমনটা নয় তবে আমি
আপনাকে কিছু সাজেশন দিচ্ছি কেমন ধরনের ক্রিম আপনারা চাইলে ব্যবহার করতে
পারেন।
- ভিটামিন সি মিশ্রিত ক্রিম ব্যবহার করবেন।
- নিয়াসিনামাইড থাকবে।
- আপনি একটি সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন যেহেতু ত্বকের যত্ন নিচ্ছেন।
সাবান এবং ফেসওয়াশ কোনটি বেঁছে নিবেন
সাবান এবং ফেসওয়াশ ভাইয়া আপনি কোনটিকে ত্বকের যত্নে উপযোগী মনে করছেন? এই
প্রশ্ন আপনারা কমেন্টে করতে পারেন।আপনাদের বেশি ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে উত্তর দিবো
না একদম সরাসরি আগে উত্তর টা দেই।উত্তরটি হলো ফেসওয়াশ ত্বকের জন্য বেশি ভালো
হবে সাবানের চেয়ে।
এর কারন আমরা শুরুতেই পড়েছি সবান মূলত ক্ষার জাতীয় একটি পদার্থ যা অতিরিক্ত
ব্যবহারে স্কিন টিস্যু কে ড্যামেজ করতে পারে এছাড়াও এটি আমাদের ত্বকের
প্রাকৃতিক ph এবং তেল কে নষ্ট করে দিতে পারে যার ফলে আমাদের ত্বক শুষ্ক হয়ে
যায়।
অপরদিকে ফেসওয়াশ কে বানানো হয়েছে মুখের সকল জীবাণু সৃষ্টিকারি ব্যাকটেরিয়া
গুলোকে পরিষ্কার করার জন্য।বিশেষত আমরা যারা ছেলেরা রয়েছি আমরা বাইরে বেশি
থাকার ফলে আমাদের ত্বকে বিভিন্ন ধুলা-বালি লেগে যায় তাই ছেলেদের জন্য ফেসওয়াশ
হতে পারে ভালো অপশন।
ত্বকের জন্য কোন সাবানটি ভালো হবে জানুন
ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান টপিকের ব্লগটি পড়তে গিয়ে হয়তো মনে হয়েছে
আপনাদের যে কোন সাবানটি ত্বকের জন্য ভালো হবে।আচ্ছা এই প্রশ্নের
আসলে নির্দিষ্ট করে কোন উত্তর দেওয়া মুশকিল আমার জন্য।
কারন,বাজারে অনেক ধরনের ভালো সাবান রয়েছে, যা
নিয়ে আমি শুরুতেই লিখেছি।এখন আপনাদের একেক মানুষের একেক ধরনের ত্বকের গঠন
আল্লাহ্ দিয়েছেন।সুতরাং আপনাদের ত্বকের ph অনুযায়ি যে সাবান টা ব্যবহার করবেন
সেটিই আপনাদের জন্য ভালো হবে।
শুধু সাবান কেনার আগে তার ph এবং মেয়াদ দেখে কিনবেন।আর ত্বকের ph অনুযায়ি না
কিনলে সেটা পরবর্তিতে আপনাদের ত্বকের চুলকানি এবং র্যাসিং এর মতো সমস্যার কারন
হতে পারে।
ভালো সাবানের বাজার মূল্য কত জানুন
আমরা যারা আজকের ব্লগটি পড়ার মাধ্যমে আমাদের রূপচর্চা শুরু করতে চাচ্ছি তাদের
জন্য এই টপিক টি জানানো কারন,আমরা সাধারণত যে সাবান কিনে থাকি সেগুলোর বাজার
মূল্য ৫৫ থেকে ১০০ টাকার মাঝে হয়ে থাকে তবে ত্বকের রূপচর্চার জন্য যে সাবান
গুলো আমরা ব্যবহার করতে চাচ্ছি সেগুলোর বাজার মূল্যঃ
- Glutathione Soap সাবানের বাজার মূল্য ৩০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে কিনতে পারবেন,দামের ভিন্নতা কোম্পানির উপর নির্ভর করে।
- Saffron Goat Milk সাবানের বাজার মূল্য ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- Kojic Whitening সাবানের বাজার মূল্য ছোট প্যাকের দাম হিসেবে ৪৫০ টাকা এবং বড় প্যাকের দাম ১০০০টাকার একটু বেশি হয়ে থাকে।
সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো করে থাকি
ফর্সা হওয়ার সাবান ব্যবহারের অনেক গুনাগুন নিয়ে তো আলোচনা করলাম কিন্তু একটি
জিনিসের শুধু ভালো দিক থাকবে তা তো আর হয়না আবার অনেকে আছেন যারা তাদের ত্বকের
PH না বুঝেই সাবান ব্যবহার করবেন,এইভাবে ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি
হবে তাই চলুন জেনে নিই যেসব সতর্কতা মেনে আমাদের সাবান ব্যবহার করা উচিত সে
সম্পর্কে।
- সাবান মুখে ব্যবহার করা উচিত নয়,যদি করেও থাকি তবে কম পরিমানে করা উচিত।বিশেষত ক্ষার যুক্ত সাবান থেকে দূরে থাকাই ভালো।
- আমাদের একেক জনের আলাদা ত্বক তাই নিজেদের ত্বকের PH বুঝেই সাবান ব্যবহার করা উচিত।
- অনেকেই দ্রুত ফর্সা হওয়ার জন্য দিনে অনেকবার সাবান ব্যবহার করেন।এটি বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।মনে রাখবেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা ব্যবহার করবেন তাই ক্ষতি।
- আমাদের মাঝে অনেকেরই অ্যালার্জির সমস্যা থাকতে পারে।আমার সাজেশন হবে আপনারা ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত এসকল প্রোডাক্ট থেকে দূরে থাকুন।
- যাদের ব্রণের সমস্যা রয়েছে আপনারা যদি বেশি সাবান মুখে ব্যবহার করেন তাহলে ব্রণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে।সেকারনে নিয়ম মেনে ব্যবহার করবেন।
- আমাদের সকলের বাসাই সাধারনত একটি সাবান রয়েছে যা আমরা সকলেই ব্যবহার করে থাকি, এটি সবচেয়ে বড় সংক্রামণ ছড়ানোর কারণ।তাই এইসকল ভুল গুলো করবেন না।
এইসব নিয়ম গুলো যদি মেনে সাবান ব্যবহার করে থাকেন তবে আশা করা যায় আপনাদের
ত্বকের তেমন কোন ক্ষতি হবে না।
সাবান নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসার সমাধান
ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান এই ব্লগটি পড়তে গিয়ে আপনাদের মনে অনেক প্রশ্ন
মনে আসতে পারে।যেগুলোর উত্তর আপনারা জানার জন্য গুগলে সার্চ করে থাকেন।এমনঅই
কিছু প্রশ্নের সমাধান নিম্নে দেওয়ার চেষ্টা করেছি পড়তে থাকুন।
ত্বক ফর্সা হওয়ার জন্য কোন সবচেয়ে ভালো?
উত্তরঃ জাফরান এবং হলুদ মিশ্রিত সাবান ত্বক উজ্জ্বলে বেশি ভূমিকা রাখে।
কালো ত্বক কি ফর্সা করা সম্ভব?
উত্তরঃ না এইটা প্রাকৃতিক ভাবে সম্ভব নয়
বিটরুট জুস কি ত্বক ফর্সা হতে সাহায্য করে?
উত্তরঃ সরাসরি করে না, তবে এটি ত্বককে পরিষ্কার করে
৪-২-৪ নিয়ম টা কিভাবে ত্বকের যত্নে ব্যবহার হয়?
উত্তরঃ এটি একটি জনপ্রিয় কোরিয়ান পদ্ধতি, প্রথমে ৪ মিনিট নিয়ে ত্বকের মেকআপ বা
সানস্ক্রিন দূর করতে তেল ম্যাসাজ করুন, এরপর ২ মিনিট ফোম ক্লিনজার (পানি জাতীয়)
দিয়ে পরিষ্কার করুন,সবশেষে ২+২=৪ মিনিট দিন গরম এবং ঠাণ্ডা পানি দিতে মুখ ধৌত
করার জন্য।
লেখকের মন্তব্যঃ ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান
"ফর্সা হওয়ার সবচেয়ে ভালো সাবান" কি-ওয়ার্ড সম্পর্কিত আজকের ব্লগটিতে আমি
আপনাদের জন্য সাবান সম্পর্কিত সকল বিষয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার চেষ্টা
করেছি।আমি আশা রাখি আজকের আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনারা আপনাদের ত্বকের জন্য
কোন সাবানটি ভালো হবে,সাবানের ভালো দিক এবং এর সাইড ইফেক্ট নিয়েও বিস্তারিত
আলোচনা করেছি।
সুতরাং আপনারা যদি ব্লগে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ি নিজের ত্বকের যত্ন নিতে থাকেন তবে
আপনাদের ত্বকের ভিতরের ময়লা গুলো পরিষ্কার হবে এবং সেইসাথে ত্বকের
উজ্জ্বলতা আবার ফিরে আসবে।তবে একটি কথা মাথায় রাখবেন আপনি যেমনভাবে সৃষ্টি তেমন
ভাবেই সুন্দর,তাই নিজের শরীরের রঙ নিয়ে কখনো হতাশ হবেন না।
আজকে এইখানেই শেষ করছি সকলেই ভালো থাকবেন, আর চেহেরার যত্ন নিতে থাকবেন।পরবর্তি
ব্লগ কোন বিষয়ে লেখা যায় সেটি জানিয়ে দিন।
আমার জন্য দোয়া রাখবেন,
আস সালামু আলাইকুম।



The ClickEra এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। কারণ,আপনাদের প্রতিটি কমেন্টে আমরা নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পাই।
comment url