গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা মেধাবী হয়

গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা মেধাবী হয় অনেকের মনেই এই প্রশ্ন নিয়ে কৌতূহল রয়েছে যার ফলে তারা এইসব বিষয় নিয়ে সার্চ করে থাকে।সন্তান মেধাবী হোক এমন আশা সকল মা-বাবা করেন।সেইকারনে গর্ভাবস্থা কালীন সময় থেকেই মায়ের এমন কিছু খাদ্য রুটিন ফলো করা উচিত যা তার বাচ্চার মেধা বিকাশিত হতে সহায়তা করবে।

গর্ভাবস্থায়-কি-খেলে-বাচ্চা-মেধাবী-হয়
একজন মেয়ে যখন গর্ভধারণ করে তার সন্তানের মেধা বিকাশের জন্য তখন থেকেই তার খাদ্য তালিকায় বিশেষ কিছু খাবার যুক্ত করা উচিত।আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করবো তেমনই কিছু খাবার এবং অভ্যাস সম্পর্কে যা বাচ্চার মেধা বিকাশে সহায়ক হবে।সেইসাথে গর্ভাবস্থায় কোন কাজ গুলো করা যাবেনা সেটি নিয়েও আলোচনা থাকছে আজকের টপিকে।

পেজ সূচিপত্রঃ গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা মেধাবী হয়

গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা মেধাবী হয়

গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা মেধাবী হয় এই নিয়ে অনেক মা-বাবাই জিজ্ঞাসা করে থাকেন।আসলে সন্তান মেধাবী বা বুদ্ধিমান হোক এমন আশা প্রতিটা পিতা-মাতা রাখেন।শিশুর মেধা বিকাশের জন্য মা কে গর্ভাবস্থা থেকেই পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ নির্ভর করে তার মায়ের খাদ্যভ্যাসের উপরে কারন শিশুর মেধা বিকাশ শুরু হয় গর্ভধারনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই।মা যদি ঠিক মতো খাবার না খায় তবে তা শিশুর উপরও প্রভাব ফেলে।সেহেতু মা যদি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ তার উপর নির্ভর করে তার বাচ্চার মস্তিষ্কের পরিবর্তন হতে থাকে।

গবেষণায় জানা যায় শিশুর মস্তিষ্কের ২৫% বিকাশ গর্ভাবস্থায় ঘটে থাকে।সুতরাং আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে এই সময়ে যেন তার এই ২৫% মেধা বিকাশ ভালোভাবে সম্পন্ন হয়।গর্ভাবস্থায় যে খাবার গুলো গ্রহন করলে শিশুর মেধা বিকাশ হবে তা হলোঃ
  • প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ মাছ,ডিম,দুধ,মুরগি,ছোট মাছ,ডাল,মটরশুটি ইত্যাদি।
  • সকল প্রকার সবুজ শাক সবজি।
  • তাজা ফ্রেশ ফল-মূলঃ পাকা কলা,খেজুর,আপেল,ব্লুবেরী,মালটা।
  • ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবারঃ লেবু,কমলালেবু,আঙুর।
  • আয়রন ও ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খেতে হবে।
  • অ্যাভোকাডো,ড্রাগন,স্ট্রবেরি ফলগুলো খেতে পারেন এটিও মেধা বিকাশে ভূমিকা রাখে।
  • বাদাম জাতীয়ঃ কাঠ বাদাম,কাজু বাদাম,পেস্তা বাদাম।
  • ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারঃ কলিজা,ভুট্টা,ডিম খেতে হবে।
  • দুগ্ধ জাতীয় খাবারঃ দই,পনির,দুধ।
  • ওমেগা-৩ যুক্ত খাবারঃ স্যামন মাছ,সামুদ্রিক মাছ,আখরোট,চিয়া সিড।
শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে তার বাঁকি ৭৫% মস্তিষ্কের বিকাশ তার খাবার গ্রহণের সাথে ঘটে,এখন বলতে পারেন শিশু অবস্থায় কিভাবে খাবে আসলে শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধই সর্বোত্তম খাবার আর মা শিশুকে তখনই ভালোভাবে খাওয়াতে পারবে যখন মা নিজে এইসকল খাদ্য গ্রহণ করবে।

উপরে লিখিত খাদ্য গুলো এমন নয় যে শুধু গর্ভাবস্থায় এইগুলো খেতে হবে,এ সকল খাদ্য বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেও খেতে পারবেন।সব থেকে ভালো হয় বাচ্চা গর্ভে আসার সময় থেকে খাওয়া।আর বাচ্চা খেতে শিখলে তখন তাকেও অল্প অল্প করে এইসব খাবার খাওয়াবেন।

গর্ভাবস্থায় যে খাবারগুলো মায়ের খাওয়া উচিত

গর্ভাবস্থায় কোন খাবার গুলো খেলে বাচ্চার বুদ্ধি বাড়বে এটি তো জানলেন কিন্তু গর্ভাবস্থায় বাচ্চার মায়ের কোন খাবার গুলো খাওয়া উচিত এই বিষয়ের প্রতিও গুরুত্ব আমাদের দেওয়া উচিত।কারন বাচ্চার মায়ের শরীর যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে এটির বিরুপ প্রভাব পড়বে বাচ্চার উপর।এর ফলে বাচ্চা অপুষ্টি নিয়েও জন্মগ্রহণ করতে পারে যা আমরা কেউই চাইনা।

তাহলে মায়ের জন্য কোন খাবার গুলো খাওয়া উচিত?উত্তর হলোঃ
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমনঃ মাছ,গোস্ত,মুরগীর গোস্ত,শিম,ডাল,মটরশুটি এইসব খাবার বেশি খাওয়া উচিত।সেইসাথে শরীরে শক্তি জোগানোর জন্য ভিটামিন যুক্ত সবজি এবং ফল-মূল খেতে পারবে।বিশেষত ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার বেশি খেতে পারে।ভাত,রুটি খেতে কোন আপত্তি নেই যেইটা মায়ের ভালো লাগবে সে সেটি খেতে পারে।

এছাড়া ভিটামিন-ডি খাওয়াটা সবচেয়ে বেশি ভালো বাচ্চার মায়ের জন্য।ভিটামিন-ডি বলতে ডিম,দুধ,ডিমের কুসুম,কলিজা এইসব খাওয়া উচিত।ফলের রসও ভালো গর্ভবতী নারীদের জন্য।আপনাদের মনে হতে পারে আমি তো ঘুরে ফিরে উপরের খাবার গুলোর নামই বলছি।
আপনাদের কথাটা ঠিক কিন্তু এর চেয়ে বেটার খাবার বাচ্চার মায়ের জন্য হবে না।কারন এইসব খাদ্য প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের শরীর কে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।এবং এইসব খাবার যে শুধু গর্ভবতী নারীরা খাবে এমনটি নয়,শরীরকে সুস্থ রাখতে আমাদের সকলকেই পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।

গর্ভাবস্থায় শিশুর মেধা বিকাশে প্রোটিনের গুরুত্ব

আচ্ছা আমরা কি প্রোটিন কাকে বলে সেটা জানি?বা প্রোটিন আমাদের কি কাজে আসে সে বিষয়ে কি আমাদের যথেষ্ট ধারনা আছে? নাই? আরেহ প্যারা কিসের আমি আছিতো জাস্ট রিল্যাক্সে পড়তে থাকুন।আশা করি পড়ার পর বুঝতে পারবেন কেন মেধা বিকাশে প্রোটিন প্রয়োজন।

অ্যামিনো অ্যাসিডের সাথে গঠিত একধরনের বড় জৈব অনু যা আমাদের দেহের গঠন বৃদ্ধি করতে সেইসাথে আমাদের দেহের কোষ টিস্যু গঠন করে সহায়তা করে তাই হলো প্রোটিন।এটি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে সেইসাথে এটি আমাদের শরীরে শক্তির জোগান দেয়।এই প্রোটিন আমাদের অ্যান্টিবডি হিসেবেও কাজ করে।

আমিষ জাতীয় খাবার প্রোটিনের উৎস হিসেবে কাজ করে থাকে।এই আমিষ ২ প্রকার।যথাঃ
  • প্রাণীজ আমিষ
  • উদ্ভিজ্জ আমিষ
প্রোটিন আমাদের শরীরে নিজে থেকে তৈরি হতে পারেনা,তাই আমিষ জাতীয় খাদ্য থেকে এর গুন গলো আমরা পেয়ে থাকি।আমাদের শরীরের প্রধান প্রত্যঙ্গ যেমনঃ হাড়,ত্বক,রক্ত এইসব সবল রাখতে প্রোটিন ভূমিকা পালন করে থাকে।এছাড়াও প্রোটিন আমাদের মেধা বিকাশে সহায়তা করে থাকে।আর আমিষ খাদ্য গুলো সম্পর্কে তো ইতিমধ্যে আপনারা পড়েছেন তবুও আরেক বার বলছি।মাংস,দুধ,ডিম,মটরশুটি,ডাল,বাদাম,ভুট্টা ইত্যাদি।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন মস্তিষ্কের কোষ গঠনে এই প্রোটিন ভূমিকা রাখছে,এছাড়াও এটি আমাদের স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করে এ থেকে বোঝায় যাচ্ছে শিশুর মেধা বিকাশের জন্য প্রোটিন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।আশা করি এটি পড়ে আপনাদের প্রোটিন নিয়ে ধারণা ক্লিয়ার হয়েছে।

গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চার ওজন বাড়ে

গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চার ওজন বাড়ে এই নিয়ে বেশি কথা বলবো না কারন উত্তরটা আপনাদের অনেকেরই জানা আছে।আমরা শুরুতেই পড়েছি প্রোটিন কোষ গঠনে কাজ করে থাকে, আপনি যদি প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমনঃ ডিম,দুধ,মাছ,মাংস এইসব খাবার গ্রহণ করেন তবে আশা করা যায় বাচ্চার ওজন প্রাকৃতিক ভাবে বাড়তে পারে।

সুতরাং বলা যায় আপনি যদি প্রোটিনযুক্ত খাবার,ওমেগা-৩,দুগ্ধজাত খাবার এবং গোটা শস্য এইসব পুষ্টিকর খাবার খান তবে আপনার বাচ্চার ওজন জন্মের সময় সঠিক মতো থাকবে এবং সে অপুষ্টি জনিত কোন রোগে ভোগার সম্ভবনা কম।এইসব টপিক নিয়ে উপরে আলোচনা করেছি তাই এটি দীর্ঘ করলাম না।

গর্ভাবস্থায় যে ফলমূল গুলো শরীরের জন্য ভালো

গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা মেধাবী হয় এই টপিকের আর্টিকেলটি পড়তে গিয়ে হয়তো মনে প্রশ্ন এসে থাকতে পারে যে, গর্ভাবস্থায় কোন ফল-মূল গুলো বাচ্চার মায়ের জন্য বেশি ভালো হবে।আপনার মনেও যদি প্রশ্ন এসে থাকে তবে চলুন বাঁকি অংশ পড়ে জেনে নিই।

ফল-মূল আমাদের শরীরের জন্য স্বাভাবিক ভাবেই অনেক উপকারী,বিশেষত একজন গর্ভধারিণি নারীর জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য অভ্যাস।ফল-মূলে থাকা ভিটামিন এবং মিনারেলস মায়ের শরীরে শক্তি জোগায় এর পাশাপাশি তার গর্ভের সন্তানের মেধা বিকাশের জন্যও এটি উপকারী হিসেবে কাজ করবে।এমনই কিছু ফলমূলের গুনাগুন নিম্নে দেওয়া হলোঃ

খেজুরঃ 
আমরা সকলেই জানি খেজুর খাওয়া সুন্নত।এই খেজুরে প্রচুর পরিমানে আয়রন,ফাইবার,পটাশিয়াম এবং প্রাকৃতিক চিনি সহ আরো পুষ্টিমান উপাদান রয়েছে যা মা এবং বাচ্চার মেধা বিকাশের জন্য খুবই উপকারী।

ব্লুূমিকা
লীলচে রঙের এই ফলটিতে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন-সি থাকে যা বাচ্চা এবং মা উভয়ের শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাচ্চার মেধা বিকাশে কার্যকারি ভূমিকা রেখে থাকে।

পেয়ারাঃ
পেয়ারা তেও ভিটামিন-সি,ভিটামিন বি-৯,ফাইবার থাকে যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে থাকে।এছাড়া এটি শিশুর মেধা বিকাশেও ভূমিকা রাখে।
গর্ভাবস্থায়-কি-খেলে-বাচ্চা-মেধাবী-হয়
কলাঃ
কলাতে থাকা ভিটামিন বি-৯ অরুচিভাব কমাতে সাহায্য করে থাকে,এছাড়াও এতে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে।পাকা কলা খাওয়া বেশি ভালো গর্ভবতি নারীদের জন্য।

আপেলঃ
গর্ভাবস্থায় আপেল খাওয়া অনেক বেশি উপকারী মায়ের জন্য।সেইসাথে এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,ফলিক এসিড শিশুর অ্যালার্জি সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে থাকে।সেইসাথে এই ফল স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।

কমলাঃ
আমরা সকলেই জানি আনারসে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-সি রয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে থাকে এছাড়াও এটি ভ্রূণের হাড় কে পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে থাকে।এটি শিশুর মেধা বিকাশেও গুরুত্ব ভূমিকা।

উক্ত উল্লেখিত ফল-মূল বাদেও আপনি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল গুলো খেতে পারবেন,অনেকে মনে করে লেবু খাওয়া যাবেনা কিন্তু ধারণা টি সঠিক নয় আপনি লেবু খেতে পারবেন।আপনি এইসব ফল যেমনঃলেবু,কমলা দিয়ে চা বানিয়ে পান করতে পারবেন।

গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা লম্বা হয়

বর্তমান সময়ে শিশুর মেধা বিকাশের পাশাপাশি মা-বাবা চান সন্তান যেনো লম্বা এবং সুঠাম দেহের অধিকারী হয়।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চার উচ্চতা কতটুকু হবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে তার জেনেটিক্সের উপরে তবে এর ব্যতিক্রম ঘটনাও দেখতে পাওয়া যায় যেমন অনেক বাচ্চার মা বাবা লম্বা হওয়া সত্ত্বেও তাদের সন্তান খাটো হতে পারে আবার অনেকের বাবা মা খাটো হলেও তাদের সন্তান লম্বা হয়ে থাকে।

এটির জন্য কিছু পুষ্টিকর খাবার রয়েছে যা এই গ্রোথ হরমোন কে বাড়াতে সাহায্য করে থাকে।যেমনঃ
  • আয়রন সমৃদ্ধ খাবার
  • প্রোটিন জাতীয় খাবার
  • জিংক সমৃদ্ধ খাবার
  • ভিটামিন জাতীয় খাবার
  • দুগ্ধজাত খাবার
  • ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
এসকল খাবার আপনি মুরগি,দুধ ডিম,সবুজ শাক সবজি,ভুট্টা,স্টার্চ জাতীয় খাবার গুলো থেকে পেয়ে থাকবেন।যদিও এইসকল বিষয় আমি শুরুতেই লিখে দিয়েছি।দেখুন গ্রোথ হরমোন বৃদ্ধি করার জন্য মাছ,গোস্ত,ডিম,বাদাম,দুধের চেয়ে বেটার খাবার আর হয় না।আর বাচ্চাকে প্রাকৃতিক সূর্যের আলো লাগতে দিবেন এতে ভিটামি-ডি রয়েছে।সুতরাং এইসব খাবার গ্রহণ করলে বাচ্চার গ্রোথ বাড়বে বলে আশা করা যায়।

এবং আমরা যারা পিতা মাতা রয়েছি তাদের উচিত সাধ্য অনুযায়ী সকল পুষ্টিকর খাবার বাচ্চা কে খাওয়ানো যেন সে সকল দিক থেকেই শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সুস্থভাবে বেড়ে উঠে।আর বাঁকিটা নির্ভর করছে তার জেনেটিক্সের উপরে যা শুরুতেই বলেছি।তাই উচ্চতা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই,কারণ আল্লাহ্‌ সবাইকে নির্দিষ্ট আকৃতিতেই বানিয়েছেন।

গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের সতর্কতা

গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় শিশু এবং মায়ের জন্য।বিশেষত এমন সময়ে মায়ের শরীরে বেশ কিছু হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে থাকে।
  • খাবারে অরুচি ভাব
  • বমি বমি ভাব অনুভূত হওয়া
  • মাথা ব্যাথা করা
  • মেজাজ খিটখিটে থাকা
  • স্তনের পরিবর্তন ঘটে
  • প্রসাব বেশি হওয়া
এইসব পরিবর্তন আসাটা খুবই স্বাভাবিক,প্রায় প্রতিটি গর্ভবতী নারীরই কমবেশি এসকল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।আর এইসময়েই বাচ্চার ভ্রূণের মাঝে অঙ্গ গঠিত হতে শুরু করে।এছাড়া এই সময়ে গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।সেকারনে এইসময়ে শরীরের প্রতি বিশেষ যত্ন এবং সতর্কতা অবলম্বণ করতে হবে।

এইসময়ে করনীয় গুলো হলোঃ
সময়মতো নির্দিষ্ট ডাক্তারের সাথে শরীরের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা।তার সাজেশন কৃত ঔষধ গুলো সময়মতো সেবন করা।শরীরের মাঝে কোন সমস্যা অনুভূত হলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাওয়া।যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে তবে নিয়মিত প্রেসার চেক করা,কারন এই সময়ে এটি উঠা-নামা করে।এইসময়ে পরিমিত বিশ্রাম করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চেষ্টা করতে হবে রাতের ঘুমটি যেনো ভালোভাবে পূরণ হয় অন্তত সারাদিনে ১০ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে,এটি শরীরের জন্য ভালো।আর পুষ্টিকর খাবারের কথা তো শুরু থেকেই বলে আসছি সেইগুলো খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।এছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে নিজের শরীরের যত্ন নিবেন।

যে খাবারগুলো গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবেনা

গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা মেধাবী হয় এই নিয়ে তো অনেকই আলোচনা করলাম আশা রাখি এই বিষয়ে আপনাদের আর কোন দ্বিধা নেই।আর যদি মনে তবুও কোন কৌতূহল জমে থাকে তবে এর পরের টপিকে সেটিও আলোচনা করে হয়েছে,চাইলে পড়তে পারেন।
এখন আলোচনা করা যাক গর্ভাবস্থায় কোন ধরনের খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে কারন এগুলো খেলে মায়ের এবং শিশুর মস্তিষ্কের ও শরীরের উপরে বিরূপ প্রভাব পড়বে।গর্ভকালীণ সময় অনেক স্পর্শকাতর একটি সময় এসময়ে যদি মা তার শরীরের দিকে এবং তার খাদ্য অভ্যাসের দিকে লক্ষ্য না করেন তবে তা শিশুর জন্য পরবর্তিতে সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।তবে চলুন জেনে নেওয়া যাকঃ
  • উচ্চ পারদ যুক্ত মাছঃ টুনা মাছ,বিভিন্ন সামুদ্রিক শিকারী মাছ।
  • অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কে এড়িয়ে চলতে হবে।
  • অতিরিক্ত ঝালযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • কিছু ফল রয়েছে যা অরিতিক্ত টক খেতে এইসব ফল গুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে।
  • যদি মায়ের উচ্চ রক্তচাপ সমস্যা থাকে তবে ডিমের কুসুম কে এড়িয়ে চলা ভালো।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত অতিরিক্ত কোন ঔষধ গ্রহণ করা যাবেনা।
  • ফাস্টফুড জাতীয় খাবার গ্রহণ না করাই ভালো।
  • অতিরিক্ত চিনি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • বর্তমানে অনেক মেয়ের ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে, এককথায় এটিকে প্রত্যাখ্যান করুন।
  • যেকোন প্রকার কাঁচা খাবার হোক সেটা সবজি বা ডিম সেগুলোকে এড়িয়ে চলুন।
  • কাঁচা পেঁপে গর্ভাবস্থায় খাওয়া যাবেনা।
  • যদি চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকে তবে অল্প পরিমানে পান করতে হবে বা ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাই ভালো।
  • আর যেকোনো প্রকার অ্যালকোহল জাতীয় খাবার খাওয়া হারাম গর্ভাবস্থায়।যদিও এইসব খাবার সবসময়ই হারাম।
উপরে উল্লেখিত খাবার গুলো এড়িয়ে চললে আশা করা যায় গর্ভাবস্থায় বিশেষ কোন সমস্যার সম্মুখীন হবে না।তবুও সময়মতো ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেকাপ করানো উচিত বলে আমি মনে করছি এবং আপনাদের সেইখানে যাওয়ার জন্য সাজেশন দিচ্ছি।

গর্ভাবস্থা নিয়ে কিছু প্রচলিত জিজ্ঞাসা

গর্ভাবস্থা নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা আপনাদের মনে রয়েছে যেগুলো আপনারা বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে সার্চ করে দেখেন এবং পড়েন।তেমনই আপনাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম।উত্তর গুলো বিশুদ্ধ ভাবে দেওয়ার চেষ্টা করেছি তবুও যদি ভুল হয় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

গর্ভাবস্থায় কত মাস পর থেকে পেট বড় হয়?
উত্তরঃ ৪ থেকে ৫ মাস।
গর্ভাবস্থায় বিটরুট খাওয়া যাবে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ,যাবে।
গর্ভাবস্থায় কি কিসমিস খাওয়া যাবে ?
উত্তরঃ হ্যাঁ,যাবে।
গর্ভাবস্থায়-কি-খেলে-বাচ্চা-মেধাবী-হয়
বাংলাদেশে মাদার হরলিক্স প্লাস এর দাম কত?
উত্তরঃ ৫৮৫ টাকা।
গর্ভাবস্থায় কোন ফল গুলো খাওয়া যাবে না?
উত্তরঃ আনারস,কাঁচা পেঁপে,অতিরিক্ত টক জাতীয় ফল
গর্ভবতী অবস্থায় কোন মাছগুলো খাওয়া ভালো?
উত্তরঃ ইলিশ,কাতলা,স্যামন

এইরকম আরো অনেক প্রশ্ন আপনাদের থাকতে পারে।যদিও আপনাদের মনমতো কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আমি চেষ্টা করেছি।আশা করছি মনের কৌতূহল এইসব বিষয় নিয়ে একটু হলেও কমেছে।

লেখকের মন্তব্যঃ গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা মেধাবী হয়

"গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা মেধাবী হয়" সে সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত সকল খুঁটিনাটি দিক সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।শিশুর মায়ের খাদ্য অভ্যাসের উপরে শিশুর বাহ্যিক বিকাশ নির্ভর করে তাই,গর্ভবতী মাকে সব সময় নিজের যত্ন নিতে হবে এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

বাচ্চার উজ্জ্বল বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়াটা জরুরী।কারন সে সুস্থ থাকলেই তার বিকাশ ক্ষমতা বাড়তে থাকবে।আর,একটা কথা সব সময় মাথায় রাখবেন আপনার শিশুর মেধা কেমন হবে তা নির্ভর করে তার জেনেটিক্সের উপরে।সুতরাং সৃষ্টিকর্তা যতটুকু মেধা আপনার সন্তানকে দিবেন তাই নির্ধারিত।
আমার পরামর্শ হবে, আপনি ইবাদাতের মাধ্যমে রবের কাছে চাইবেন কারন তিনি চাইলে সবই সম্ভব,আপনাদের যাদের বাচ্চা হবে সকলের জন্য দোয়া রইলো।
সকলেই ভালো থাকবেন, আমার জন্য দোয়া রাখবেন,
আস সালামু আলাইকুম।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

The ClickEra এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। কারণ,আপনাদের প্রতিটি কমেন্টে আমরা নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পাই।

comment url

Siam Sarar
Siam Sarar
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও দ্যা ক্লিকএরা ব্লগের অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।